ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ দমন করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা ইরানি জনগণ ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। এই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরান কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং প্রধান শহরগুলোতে শান্তি ফিরে এসেছে। এরই প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই অস্থিরতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
খামেনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রদ্রোহ সংগঠিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। এটি আরও বড় পরিকল্পনার সূচনা ছিল। কিন্তু ইরানি জাতি যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে।’ তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্পের ‘সাহায্য আসছে’ মন্তব্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা আসন্ন ছিল। তবে পরে ট্রাম্প জানান, অস্থিরতার সময় আটক বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্তে ইরান সম্মত হওয়ায় হামলার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
খামেনি বলেন, ‘আমরা সহিংসতার আগুন নিভিয়ে দিয়েছি, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না, তবে ইরানের ভেতরে ও বাইরে জড়িত অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন— যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
সিএ/এসএ


