মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার সাবেক বান্ধবী ও সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক্সএআইয়ের এআই টুল ‘গ্রোক’ তার অনুমতি ছাড়াই তাকে নিয়ে অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেইক ছবি তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে তিনি সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন এবং গুরুতর মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
সম্প্রতি গ্রোকের মাধ্যমে তৈরি যৌন আবেদনময় ডিপফেইক ছবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, অনুমতি ছাড়াই বাস্তব মানুষের ছবি পরিবর্তন করে অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছবিও এতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা-র দপ্তর জানায়, বড়দিন ও নববর্ষের ছুটির সময়ে তৈরি প্রায় ২০ হাজার ছবির অর্ধেকেরও বেশি ছবিতে স্বল্প পোশাক পরা মানুষকে দেখানো হয়েছে। এসব ছবির মধ্যে কিছুতে নাবালকও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে।
সমালোচনার মুখে এক্সএআই জানায়, যেসব দেশে এ ধরনের কনটেন্ট অবৈধ, সেখানে গ্রোক ও এক্স প্ল্যাটফর্মে বাস্তব মানুষের বিকিনি, অন্তর্বাস বা অনুরূপ পোশাকে ছবি তৈরির সুবিধা জিওব্লক করা হবে। আইন লঙ্ঘন ও প্ল্যাটফর্ম নীতিমালা ভঙ্গ ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করেন লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাকে নিয়ে তৈরি কিছু ডিপফেইক ছবিতে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
সেন্ট ক্লেয়ার জানান, গত বছর এসব ছবি প্রকাশের পর তিনি ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সেগুলো রিপোর্ট করেছিলেন এবং অপসারণের অনুরোধ জানান। তবে তখন প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছবিগুলো তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। পরে সম্মতি ছাড়া তার ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও গ্রোকের মাধ্যমে এসব ছবি তৈরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলায় ক্ষতিপূরণ ও দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, গ্রোক ব্যবহার করে তার নামে ডজনেরও বেশি যৌন হয়রানিমূলক ছবি তৈরি ও এক্সে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে তিনি চরম মানসিক চাপ ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বর্তমানে ইলন মাস্কের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে নেই। ২৭ বছর বয়সি এই লেখক ও ডানপন্থি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ২০২৪ সালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
মামলায় তার পক্ষে লড়ছেন ভুক্তভোগীদের অধিকারবিষয়ক আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ। তিনি বলেন, গ্রোক সম্মতিহীন ও অবমাননাকর ছবি তৈরির সুযোগ রেখে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা সহজেই হয়রানির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগের পর এক্স কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেছে এবং তার অ্যাকাউন্টের আয়সংক্রান্ত সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


