যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে দখল করার পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের একাধিক দেশ ঘোষণা করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের মিত্র গ্রিনল্যান্ডকে জোরপূর্বক দখল করতে চায়, তারা সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো একসঙ্গে পদক্ষেপ নেবে। তিনি মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন এবং আশ্বাস পেয়েছেন যে ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, গ্রিনল্যান্ডে তেমন কিছু হবে না।
ইউরোপীয় মিত্ররা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড তার জনগণেরই। ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জোহানেস কোসকিনেন ন্যাটোর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ডেনমার্ক সতর্ক করেছে, গ্রিনল্যান্ড জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা হলে ন্যাটোসহ ৮০ বছরের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সম্পর্কও প্রশ্নের মুখে পড়বে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মেনে নেবে না।
গ্রিনল্যান্ডে জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ধারণা প্রকাশ করে আসছেন। মার্কো রুবিও জানান, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য গ্রিনল্যান্ড কেনা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর কোনো আলোচনা শোনা যায়নি এবং বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


