ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে শনিবার রাতের দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। বিস্ফোরণগুলোতে সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণ ধ্বনিত হয়েছে এবং নিচু আকাশে বিমান উড়ার শব্দও শোনা গেছে।
রাত সোয়া ২টার দিকে পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ ধরা পড়ছিল, তবে বিস্ফোরণের সঠিক অবস্থান স্পষ্ট ছিল না। এ সময় বিভিন্ন পাড়ার মানুষ রাস্তায় ছুটে আসে। ভেনেজুয়েলার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় বিস্ফোরণ এবং বিমানের খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকার কর্তৃক সংঘটিত সামরিক আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি লা কার্লোটা এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উভয় স্থানে বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শহরের ওপর দিয়ে বিমান উড়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় সাগরে মাদক বহনের অভিযোগে স্পিডবোটে সামরিক হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি দেশের মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ।
সিএ/এএ


