জামাতে নামাজ আদায়ের সময় ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে মুক্তাদির জন্য কেরাত পাঠ করা প্রয়োজন কি না—এ প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই রয়েছে। ইসলামি শরিয়তের আলোচনায় এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারী মুক্তাদি কোনো রাকাতে সুরা ফাতেহা বা অন্য কোনো সুরা পড়বেন না। ইমামের কেরাত শোনা গেলে মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে হবে, আর না শোনা গেলেও নীরব থাকতে হবে। কারণ জামাতে নামাজে ইমামের কেরাতই মুক্তাদিদের কেরাত হিসেবে গণ্য হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ইমামের পেছনে নামাজ পড়ছে, ইমামের কেরাতই তার কেরাত। (সুনানে ইবনে মাজা)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, যখন কোরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন নীরবে মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে হবে, যাতে রহমত লাভ করা যায়। (সুরা আরাফ: ২০৪)
তাফসিরকারদের মতে, এই নির্দেশনা ইমামের উচ্চস্বরে কিংবা নিম্নস্বরে উভয় ধরনের কেরাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে ইমাম যখন উচ্চস্বরে কেরাত পড়বেন তখন তা শোনা এবং নীরব থাকা জরুরি, আর নিম্নস্বরে পড়লেও নীরব থাকা আবশ্যক।
অন্যদিকে একা নামাজ আদায়কারী বা ইমামের জন্য কোরআন তিলাওয়াত করা ফরজ। সুরা ফাতেহা পড়া এবং সঙ্গে অন্য সুরা মিলানো ওয়াজিব। যদি কেউ তা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করেন, তবে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। আর ভুলক্রমে না পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে।
সিএ/এমআর


