ফরিদপুরে ‘মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির এক সোনালি অর্জন। এ অর্জনের তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গে চলে না। একাত্তরের চেতনা ধারণ ও লালন করে আমাদের দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে হবে।
আজকের অনুষ্ঠানে ফরিদপুর ছাড়াও বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, নড়াইল, মাদারীপুর ও সিরাজগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে দেশব্যাপী মার্চ মাসজুড়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়।
ফরিদপুরে বেলা সাড়ে ১১টায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন আহমেদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রথম আলো শুধু একটি পত্রিকা নয়; সামাজিক আন্দোলনের সৈনিক। প্রথম আলো চায়, তোমরা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানো এবং প্রকৃত দেশমাতৃকার আদর্শ সন্তান হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করো। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজ কুমার বিশ্বাস ও সহকারী প্রধান শিক্ষক রাফেজা খাতুন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম প্রভাতী শাখার শিক্ষার্থী। প্রথম হয়েছে জারিফা রহমান, দ্বিতীয় তাহারাত তানজুম (তাসনিম), তৃতীয় মার্জিয়া ইসলাম (মায়া), চতুর্থ রাবেয়া আক্তার এবং পঞ্চম হয়েছে রাবেয়া আক্তার (মিম)। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন ফরিদপুর বন্ধুসভার উপদেষ্টা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক সহিদ উল্লা, সভাপতি জহির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সজীব দত্ত সহ অন্যান্য সদস্যরা।
বরিশালে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের মিলনায়তনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে একই দিনে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সহকারী অধ্যাপক এম এম তারিকুজ্জামান বলেন, একাত্তরে যাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের দায়িত্ব পালন করার পথ দেখিয়েছেন। এখন ভবিষ্যতের দায়িত্ব তোমাদের। অনুষ্ঠান শেষে ৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১৩ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে উৎসব বণিক, মো. নাইম ও শারমিন খানম।
ময়মনসিংহে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা সবাই এক একজন নতুন যোদ্ধা। তোমাদের মাধ্যমে এই মুক্তিযুদ্ধ আজন্ম জীবিত থাকবে। ৩০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রথম স্থান অর্জন করে নবম শ্রেণির মৌরিন জাহান, দ্বিতীয় নবম শ্রেণির সৈয়দা মাইমুনা মুস্তরা, তৃতীয় নবম শ্রেণির সিদরাতুল মুনতাহা।
ঠাকুরগাঁও শহরের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে সকাল ৯টা থেকে অলিম্পিয়াড শুরু হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আয়োজন উদ্বোধন করেন অধ্যক্ষ মোতালেব হোসেন। মোট ১৭৬ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড। বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, যে জাতি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানে না, সে জাতি নিজের গৌরব নষ্ট করে। প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রথম স্থান অধিকার করে রাকিব ফকির, দ্বিতীয় জান্নাতুল ফেরদৌসী মায়া এবং তৃতীয় তরুণ মোল্লা।
মানিকগঞ্জে গিলন্ড রাকিব আহমেদ উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় অলিম্পিয়াড। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রহম আলী বলেন, মৃত্যু স্বীকার করেও আমরা লড়াই করেছি, তাই শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। মোট ৬০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১৩ জন বিজয়ী নির্বাচিত হয়।
নড়াইলে শিব শংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা হয়। প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রথম স্থান অধিকার করে অত্রি সাহা, দ্বিতীয় লামিয়া আক্তার ও তৃতীয় সানজিদা অফরিন।
মাদারীপুর শহরের আলহাজ আমিনউদ্দিন হাইস্কুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেনের উপস্থিতিতে ১২০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়।
সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বেলা ১২টায় মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। ১১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, প্রথমে তাসনিম কবির কথা, দ্বিতীয় ফাতেমা খাতুন মিথিলা, তৃতীয় আফিয়া খাতুন।
সিএ/এমই


