ফরিদপুরে রাজু শেখ (৩৬)কে হত্যার ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই ইব্রাহিম শেখ (২৬) মূল পরিকল্পনাকারী বলে পুলিশ জানিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ ও মাদক সংক্রান্ত লেনদেনের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ফরিদপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম সোমবার দুপুরে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। নিহত রাজু শহরের ২ নম্বর কুটিবাড়ি মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকার বাসিন্দা। ২ মার্চ রাত ১০টার দিকে স্টেশন বাজারের একটি মাংসের দোকানের সামনে রাজুর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহতের মা ছবি বেগম ৩ মার্চ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, তবে ইব্রাহিমের নাম উল্লেখ ছিল না। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাজু মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এবং পারিবারিক বিরোধ ও মাদক লেনদেন নিয়ে হত্যা ঘটানো হয়।
ইব্রাহিমের সঙ্গে রাজুর দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। ঘটনার তিন দিন আগে রাজু ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইব্রাহিমকে আঘাত করলে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহিম হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর তিনি হৃদয়, সাকিব, রবিউল, মারুফ ও স্বপ্নসহ কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজুর ওপর হামলা চালান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন জানান, রাজুর নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা রয়েছে। তিনি আসামি হৃদয়ের মা ও শাশুড়ি এবং স্বপ্নের কাছ থেকে মাদক এনে বিক্রি করলেও টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াতেন। এ নিয়ে তারা রাজুর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঢাকা ও বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে যান। গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ পাবনার সাঁথিয়া থানা এলাকা থেকে কয়েকজনকে এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রোববার রাতে কোতোয়ালি থানার হাবেলী গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শামসুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এমই


