প্রতিবছর রোজা ও ঈদের সময় ঘিরে মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা দেখা যায়। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করলে অনেক আগেই অনুমান করা সম্ভব, কখন এবং কোথায় নতুন চাঁদ দেখা যাবে।
ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল। এক অমাবস্যা থেকে পরবর্তী অমাবস্যা পর্যন্ত একটি মাস গণনা করা হয়, যা সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। অমাবস্যার পর নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সময় নির্ভর করে চাঁদের বয়স, অবস্থান এবং সূর্যের সঙ্গে তার কৌণিক দূরত্বের ওপর।
জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর খালি চোখে চাঁদ দেখতে হলে চাঁদের বয়স কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা হতে হয় এবং সূর্যের সঙ্গে এর কৌণিক দূরত্ব ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি হওয়া প্রয়োজন। এই কারণে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে চাঁদ দেখা ভিন্ন সময়ে হয়।
পৃথিবীর অবস্থানভেদে রোজা ও ঈদের দিন ভিন্ন হতে পারে। সময়ের পার্থক্যের কারণে এক দেশে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য দেশে তা দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে কোনো কোনো দেশে একদিন আগে বা পরে রোজা বা ঈদ উদযাপিত হয়।
উন্নত প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব ব্যবহার করে এখন নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব, কোন দিনে চাঁদ দেখা যাবে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে টেলিস্কোপ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য ব্যবহার করে চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় ও অবস্থান বিবেচনায় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আগেই নির্ধারণ করা যায়। ফলে আগে থেকেই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ অনুমান করা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খালি চোখে চাঁদ দেখার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি কমবে এবং দেশের সব জায়গায় একই দিনে ঈদ উদযাপন সহজ হবে।
সিএ/এমআর


