দেখতে দেখতে ২৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চিরবিদায় নেন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। তার মৃত্যু পরবর্তী সময় এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এই প্রতিবেদনটি পুনঃপ্রকাশ করা হলো।
প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানরা এখনও স্মরণ করতে পারেন, জন এফ. কেনেডি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটা তারা কীভাবে পেয়েছিলেন। ক্রিকেটে সেই ‘জেএফকে মুহূর্ত’ হিসেবে পরিচিত স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের মৃত্যু।
স্টিভ ওয়াহর খবরটি পেয়েছিলেন রাত ২টা ১৫ মিনিটে, সিডনির স্ত্রী লিনেটের ফোন কলের মাধ্যমে। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে দুঃসংবাদটি জানান পার্থের এক রেডিও স্টেশন থেকে। শেন ওয়ার্নও একই হোটেলে ছিলেন এবং তাকে ফোনে খবরটি দেওয়া হয় এক টেলিভিশন রিপোর্টারের মাধ্যমে।
অস্ট্রেলিয়া দলের মিডিয়া ম্যানেজার ব্রায়ান মুর্গাট্রয়েড মেলবোর্ন থেকে ফোনে খবর পান। সঙ্গে সঙ্গে কাগজ-কলম নিয়ে টেবিলে বসে সবাইকে তথ্য পৌঁছে দেন। পরদিন জানা যায়, পরিবার এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই আগেই খবর পেয়েছিলেন। স্যার ডনের মৃত্যু আমেরিকান চ্যানেল সিএনএনের জন্যও বড় খবর ছিল।
২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ব্র্যাডম্যান যখন চিরতরে চোখ বুজলেন, স্টিভ ওয়াহ তখন ভারতে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’ জয় করতে ব্যস্ত ছিলেন। ভোররাতে খবরটি পেয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা মুম্বাইয়ের তাজমহল হোটেলের লবিতে সংবাদদাতাদের ভিড় দেখেন। স্টিভ ওয়াহ এবং শেন ওয়ার্নকে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করতে হয়। পরবর্তীতে পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সবাই স্যার ডনকে নিয়েই প্রশ্ন করতেন।
ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং গড় ৯৯.৯৪। শেষ ইনিংসে মাত্র ৪ রান করলেই গড় ১০০ হতো। এমন তথ্য ক্রিকেট অনুসরণ না করা মানুষও জানে। তার ব্যাটিং গড়ের মহিমা বোঝার জন্য অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের তুলনা করতে হয়। স্যার ডনের পরিসংখ্যান অসাধারণ: ৩৩৮টি প্রথম শ্রেণির ইনিংসের ২২১টিতে সেঞ্চুরি পাননি, তবে সেই ইনিংসগুলোর গড় ৫৮.২০।
স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের শৈশব কেটেছে ৫২ শেফার্ড স্ট্রিটে। বাউরালে তার জাদুঘর ও ব্র্যাডম্যান ওভাল মাঠে মূর্তিতে দেখা যায়, এক হাতে ব্যাট আর এক হাতে ক্যাপ উঁচিয়ে। ব্র্যাডম্যানের কীর্তি শুধুমাত্র ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চার্লস ডেভিসের প্রকাশিত বইয়ে তার রেটিং ৪.৪, অন্য খেলার চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।
বিখ্যাত অঙ্কবিদ টমাস হার্ডি ‘ব্র্যাডম্যান ক্লাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানবীয় কীর্তির সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইনরা এই শ্রেণিতে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
শেষ টেস্ট খেলেছেন প্রায় ৭৮ বছর আগে, তবে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের মহিমা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
সিএ/এমই


