২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই ফ্লোরিডাকে ঘিরে উদ্রেক হয়েছে নতুন বিতর্ক। অঙ্গরাজ্যটিতে পর্যটক এবং ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন। তারা বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ভ্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত ফ্লোরিডার কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বর্ণবৈষম্যের আশঙ্কা থেকে এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশন এবং আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও পুলিশের যত্রতত্র তল্লাশি পর্যটকদের জন্য অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাদের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কেবল চেহারা বা ভাষার ভিত্তিতে পর্যটকদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে।
ফ্লোরিডা ইমিগ্র্যান্ট কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক টেসসা পেটিট বলেন, ‘ফ্লোরিডা এখন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নয়। পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্টরা যেকোনো সময় কাউকে আটক করতে পারে, ফলে সবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আমরা ফুটবলপ্রেমীদের বলছি, ফ্লোরিডায় আসার আগে সতর্কভাবে ভাবুন।’
সংগঠনগুলো বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে আসা দর্শকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বৈধ ভিসা থাকলেও পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসন আইন এবং ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন অপব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে।
ফ্লোরিডার মায়ামিতে বিশ্বকাপের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিপুল পরিমাণ পর্যটকের উপস্থিতি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতির জন্য সুবিধাজনক হলেও নাগরিক অধিকার নিয়ে এই সতর্কতা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক সংগঠনগুলো ফিফাকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন মেনে চললে দর্শনার্থীদের কোনো ভয়ের কারণ নেই। তবে নাগরিক সংগঠনগুলোর সতর্কবার্তার পর ফিফা বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সিএ/এসএ


