আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ দলকে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে হবে।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের সবকটি ম্যাচই পড়েছে ভারতের ভেন্যুতে। তবে সাম্প্রতিক ইস্যুর জেরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশ তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করেছে।
আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জমা পড়ায় সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। কারণ বাংলাদেশ দলের চারটি ম্যাচ ভারতের মাঠে না হলে আয়োজক দেশ হিসেবে ম্যাচ-ডে আয়, স্থানীয় স্পনসরশিপ ও হসপিটালিটি খাত থেকে প্রত্যাশিত আয়ের বড় অংশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে আইসিসি। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় সূচি পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না আইসিসি। তবে শেষ পর্যন্ত সূচি বদলালে ভারতের আর্থিক ক্ষতি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ও মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ইডেন গার্ডেন্সে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়েতে প্রায় ৩৩ হাজার। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চার ম্যাচে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। এসব ম্যাচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ৩০০ রুপি পর্যন্ত।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশনের হাতে। ফলে আয়োজক হিসেবে বিসিসিআই সরাসরি টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ পায় না। তবে ম্যাচ-ডে সারপ্লাস, স্থানীয় স্পনসরশিপ এবং ভিআইপি বক্সসহ হসপিটালিটি সেবার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয় হওয়ার কথা ছিল ভারতের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর ওই ভেন্যুগুলোতে অন্য কোনো ম্যাচ আয়োজন না করা হয়, তাহলে বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং টিকিটের গড় মূল্য ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপি ধরে। তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর পরিবর্তে যদি একই ভেন্যুতে অন্য ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে এই ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: খেলার সময়
সিএ/এসএ


