বিপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার পর কেটে গেছে ১২ দিন। এই সময়ে সাতটি ম্যাচ ডেতে মোট ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিগ পর্বে প্রতিটি দল খেলবে ১০টি করে ম্যাচ। এরই মধ্যে রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস খেলেছে পাঁচটি করে ম্যাচ। সবচেয়ে বেশি ছয়টি ম্যাচ খেলেছে ঘরের মাঠে নামা সিলেট টাইটানস। অন্যদিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস খেলেছে চারটি করে ম্যাচ।
প্রায় অর্ধেক পথ পেরোনো এই টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ও বল হাতে কারা আলাদা করে নজর কাড়ছেন, পাশাপাশি মাঠের ভেতরে–বাইরে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে কোন ঘটনাগুলো—সেগুলোই উঠে এসেছে এখন পর্যন্ত বিপিএলের চিত্রে।
ব্যাটিংয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রান করেছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। চার ম্যাচে এক সেঞ্চুরিতে তাঁর রান ২০৩। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর পরের তিন ম্যাচেও ভালো শুরু পেয়েছিলেন তিনি, তবে আর কোনো ফিফটি করতে পারেননি।
মোট রানে নাজমুলের ঠিক পেছনেই আছেন পারভেজ হোসেন। ছয় ম্যাচের ছয় ইনিংসে দুই ফিফটিতে তাঁর সংগ্রহ ২০২ রান। ওপেনার হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের বিপিএলে মিডল অর্ডারে নেমে সফল হয়েছেন পারভেজ। ছয় ইনিংসের পাঁচটিতেই তিনি খেলেছেন মিডল অর্ডারে। নাজমুল ও পারভেজ এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ নয়টি করে ছক্কা মেরেছেন।
শীর্ষ পাঁচের বাকি তিন ব্যাটসম্যান হলেন ডেভিড ম্যালান (১৯৬), অ্যাডাম রসিংটন (১৯২) ও মোহাম্মদ নাঈম (১৭২)। রান তালিকায় ম্যালান এগিয়ে থাকলেও কার্যকর ব্যাটিংয়ের বিচারে তাঁর অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। এবারের বিপিএলে তাঁর স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৭.৬৯, যা শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ ম্যাচে ৩০ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেও দলকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি। বিপরীতে নাজমুলের স্ট্রাইক রেট ১৪৭.১০, যা শীর্ষ পাঁচের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের ইংলিশ ওপেনার ও উইকেটকিপার অ্যাডাম রসিংটন টানা তিন ম্যাচে ফিফটি করে বিপিএলের একটি রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। শীর্ষ পাঁচে না থাকলেও কার্যকর ইনিংসের বিচারে রংপুরের মাহমুদউল্লাহ এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তাঁর রান ১১৬। সর্বশেষ তিন ম্যাচে তিনি করেছেন ৩৪, ৫১ ও ৩০।
বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস এখনও ছন্দ খুঁজে পাননি। একইভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স আসেনি।
বল হাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রভাবশালী পারফরম্যান্স পাকিস্তানের পেস বোলিং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফের। রংপুর রাইডার্সের হয়ে তিন ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১১ উইকেট। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরীফুল ইসলাম ও রংপুর রাইডার্সের মোস্তাফিজুর রহমান, দুজনেরই উইকেট সংখ্যা নয়টি করে।
সিলেট টাইটানসের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ নিয়েছেন আট উইকেট, আর খালেদ আহমেদের ঝুলিতে আছে সাতটি উইকেট। নাসুম এরই মধ্যে বিপিএলে স্পিনারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন—মাত্র সাত রানে পাঁচ উইকেট। এ ছাড়া তানভীর ইসলাম, রিপন মণ্ডল ও মেহেদী হাসানও ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করছেন।
এবারের বিপিএলে আলাদা করে আলোচনায় এসেছে পারভেজ হোসেনের উইকেটকিপিং ও স্লেজিং। টি-টোয়েন্টিতে মাত্র দুই ম্যাচ কিপিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সিলেট টাইটানসের হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। উইকেটের পেছনে তাঁর পারফরম্যান্স যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি তাঁর স্লেজিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইংলিশ তরুণ ক্রিকেটার ইথান ব্রুকসের ফিল্ডিংও দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
সিএ/এসএ


