বার্সেলোনা ও স্পেনের জার্সিতে ১৫০ ম্যাচ—লামিনে ইয়ামালের বয়স মাত্র ১৮। এত অল্প বয়সে এমন অভিজ্ঞতা ও প্রভাব বিস্ময় জাগায় স্বাভাবিকভাবেই। মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স সেই বিস্ময়কে আরও গভীর করেছে। তাই লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা আরেক মহাতারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনাটা অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
ইয়ামাল নিজে অবশ্য বারবারই বলেছেন, তিনি মেসির ছায়ায় থাকতে চান না—নিজের আলাদা পরিচয় গড়াই তাঁর লক্ষ্য। তবু পরিসংখ্যান সামনে এলে তুলনা থামে না। প্রশ্নটা তাই একটাই—ক্যারিয়ারের প্রথম ১৫০ ম্যাচ শেষে ইয়ামাল কোথায় দাঁড়িয়ে, আর একই সময়ে মেসি কোথায় ছিলেন?
সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা বয়সে। ইয়ামাল ১৫০তম ম্যাচ খেলেছেন ১৮ বছর বয়সে। মেসি এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ২০০৮ সালে, বয়স ছিল ২১। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতার দিক থেকে ইয়ামাল এগিয়ে সময়ের আগেই। যে বয়সে মেসি বার্সেলোনার মূল একাদশে জায়গা পাকা করার লড়াইয়ে ছিলেন, সেই বয়সে ইয়ামাল ইতিমধ্যেই বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
সংখ্যার হিসাবে যদিও ব্যবধান খুব বড় নয়। গোলের দিক থেকে মেসি এগিয়ে—প্রথম ১৫০ ম্যাচে তাঁর গোল ৫৮টি, ইয়ামালের ৪০। তবে অ্যাসিস্টে ইয়ামাল স্পষ্টভাবে এগিয়ে। তাঁর অ্যাসিস্ট ৫৭টি, যেখানে মেসির ছিল ৩১টি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট গোলে অবদানে ইয়ামালই এগিয়ে—৯৭টি, মেসির ছিল ৮৯টি।
মিনিটের হিসাবেও দুজনের মধ্যে পার্থক্য সামান্য। ইয়ামাল প্রতি ১১২.৮ মিনিটে একটি করে গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন, মেসির ক্ষেত্রে ছিল প্রতি ১১৪.৭ মিনিটে একবার।
সংখ্যা সব সময় পুরো গল্প বলে না। কিন্তু কখনো কখনো সংখ্যাই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। ইয়ামালের ক্ষেত্রে সেই ইঙ্গিতটা স্পষ্ট—খুবই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, শুরুটা যাঁর এত উজ্জ্বল, তিনি কি পারবেন মেসির সেই অতিমানবীয় ধারাবাহিকতার পাহাড় ছুঁতে? উত্তরটা সময়ই দেবে।
সিএ/এসএ


