রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা জানিয়েছেন, দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে তা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। তবে বক্তারা সতর্ক করেছেন, ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন ধরনের বৈষম্যও সৃষ্টি করছে এবং প্রথাগত অনেক কর্মসংস্থান কমছে।
‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এ আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হলেও নীতিগত অস্পষ্টতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ব্যান্ডউইডথ ব্যয়, ডিজিটাল বৈষম্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে জবাবদিহির অভাবসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলীলী। এছাড়া ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হক, বিসিআই ও ডিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি এবং উদ্যোক্তা ও ব্যাংক প্রতিনিধি ছিলেন অনুষ্ঠানে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নতুন ধরনের বৈষম্যও তৈরি করছে। একদিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কারণে প্রথাগত অনেক কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে।
অপরদিকে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ মন্তব্য করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, ব্যবসা সহজীকরণ, খরচ কমানো ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ডিজিটালাইজেশন অপরিহার্য।
বক্তারা উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নৈরাজ্যমূলক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘মেটাকে সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যা একটি সঠিক পদক্ষেপ। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
সিএ/এসএ


