স্মার্টফোনে বড় ক্যামেরা বাম্প এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন চমক দেখিয়েছে গুগল। তাদের নতুন স্মার্টফোন পিক্সেল ১০এ এসেছে সম্পূর্ণ সমতল ব্যাক ডিজাইনে, যেখানে কোনো ধরনের ক্যামেরা বাম্প রাখা হয়নি।
গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন নির্মাতারা উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি যুক্ত করতে গিয়ে ডিভাইসে বড়সড় ক্যামেরা বাম্প ব্যবহার করেছে। এতে ছবি তোলার মান উন্নত হলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা তৈরি হয়। বিশেষ করে সমতল জায়গায় রাখলে ফোন দুলে ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে গুগল তাদের নতুন বাজেট ফোন পিক্সেল ১০এ-তে সম্পূর্ণ সমতল ব্যাক ডিজাইন বজায় রেখেছে। ফলে ফোনটি যেকোনো সমতল পৃষ্ঠে স্থিরভাবে রাখা সম্ভব।
ডিজাইনে এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনেনি প্রতিষ্ঠানটি। আগের মডেল পিক্সেল ৯এ-এর সঙ্গে বেশ কিছু মিল রয়েছে নতুন এই ফোনে।
পিক্সেল ১০এ-তে রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে, যা আগের তুলনায় আরও উজ্জ্বল। এতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিটস ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে, ফলে রোদেও সহজে ব্যবহার করা সম্ভব। ডিসপ্লেটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করলেও ডিফল্টভাবে এটি ৬০ হার্টজে সেট থাকে।
হার্ডওয়্যার দিক থেকে এতে ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের টেনসর জিফোর চিপ, যা আগের মডেলেও ছিল। ফলে পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও স্থিতিশীল অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।
ফোনটিতে ৫,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে পুরো দিন পার করতে সক্ষম। দ্রুত চার্জিং সুবিধাও কিছুটা উন্নত করা হয়েছে। তবে সব নতুন এআই ফিচার এতে যুক্ত হয়নি।
বিশেষ করে উন্নত জেমিনি ন্যানো মডেল চালানোর সক্ষমতা না থাকায় কিছু ফিচার অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে নোটিফিকেশন সামারি, স্মার্ট সাজেশন এবং কল ট্রান্সলেশনের মতো সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ক্যামেরা বিভাগে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং ১৩ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। সাধারণ ব্যবহারে ছবি সন্তোষজনক হলেও ওয়াইড লেন্সে কিছুটা ডিটেইল কম পাওয়া যায়।
তবে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘ক্যামেরা কোচ’ নামের একটি এআই ফিচার, যা ছবি তোলার সময় সঠিক ফ্রেম নির্ধারণে সহায়তা করে। এছাড়া ‘অটো বেস্ট টেক’ ফিচার একাধিক ছবি বিশ্লেষণ করে সেরা ছবিটি তৈরি করতে পারে।
৪৯৯ ডলারে বাজারে আসা এই ফোনটি ব্যাটারি, ডিসপ্লে ও ডিজাইনের সমন্বয়ে ভালো অভিজ্ঞতা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিএ/এমআর


