ইন্টারনেট সেন্সরশিপ আরও জোরদার করতে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের ওপর নতুন করে কঠোরতা আরোপ করছে রাশিয়া। ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি ওয়েবসাইটে প্রবেশ সীমিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
রাশিয়ার ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মাকসুত শাদায়েভ জানিয়েছেন, “মূল লক্ষ্য ভিপিএনের ব্যবহার কমিয়ে আনা।” তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও উল্লেখ করা হলেও সেগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক নাগরিক ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এড়াতে ভিপিএন ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশটি চার শতাধিক ভিপিএন ব্লক করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।
২০২২ সালে ইউক্রেইনে হামলার পর থেকে রাশিয়া ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনায় কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। এ সময় সোভিয়েত যুগের মতো নানা আইন চালু করে তথ্য নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক করা, টেলিগ্রামের গতি কমিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন শহরে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্চের শুরুতে মস্কোর কেন্দ্রীয় এলাকায় বিদেশি অনেক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হলে শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
সরকারের দাবি, ইউক্রেইনের ড্রোন হামলা প্রতিরোধের জন্যই এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে রাশিয়াকে আরও বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভিপিএন নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা অনেকটা ইঁদুর-বিড়াল খেলায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একটির পর একটি ভিপিএন বন্ধ করলেও নতুন ভিপিএন দ্রুত সামনে চলে আসছে। ফলে অনেক ব্যবহারকারী প্রতিদিন ভিপিএন পরিবর্তন করে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
সিএ/এমআর


