দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর পর মানুষের চন্দ্রাভিযান আবার শুরু হলেও মহাকাশে গিয়েও পার্থিব সমস্যার হাত থেকে মুক্তি মিলছে না। সাম্প্রতিক আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীরা এমন কিছু অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা অনেকটা দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার মতোই।
উৎক্ষেপণের আগেই নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় মিশনটিকে। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম লিক, হিট শিল্ডের ত্রুটি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে মহাকাশে যাত্রা শুরু করে ওরিয়ন মহাকাশযান। তবে মহাকাশে পৌঁছানোর পর নতুন ধরনের সমস্যার উদ্ভব হয়।
মিশনের প্রথম দিনেই কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মাইক্রোসফট আউটলুক ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। লাইভস্ট্রিমে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, তিনি মিশন কন্ট্রোলের কাছে প্রযুক্তিগত সহায়তা চান।
“আমি দেখছি, আমার এখানে দুটো মাইক্রোসফট আউটলুক আছে এবং এগুলোর কোনোটিই কাজ করছে না। আপনারা (নাসা) যদি রিমোটলি বা দূর থেকে আমার কম্পিউটারে ঢুকে ‘অপ্টিমাস’ এবং ওই আউটলুক দুটো পরীক্ষা করে দেখতেন তবে খুব ভালো হত।”
এর কিছুক্ষণ পরই মিশন কন্ট্রোল থেকে জানানো হয়, সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ওয়াইজম্যানকে জানাতে চাই, তার ‘পিসিডি-১’ কম্পিউটারে আমাদের রিমোট অ্যাক্সেসের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা অপ্টিমাসের সমস্যাটি সমাধান করেছি এবং আউটলুকও সচল করেছি। তবে তা অফলাইন দেখাবে, যা এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক।”
মহাকাশে ইমেইল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে ‘আউট-অফ-অফিস’ স্বয়ংক্রিয় বার্তা সেট করাই যথেষ্ট হতে পারত।
এদিকে, শুধু সফটওয়্যার নয়, হার্ডওয়্যার সমস্যাও দেখা দেয় মহাকাশযানে। উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই টয়লেটের ফ্যান জ্যাম হয়ে যায়। ফলে নভোচারীদের জন্য নতুন বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়।
নাসার মুখপাত্র গ্যারি জর্ডান বলেন, “খবর মিলেছে, টয়লেটের ফ্যানটি জ্যাম হয়ে আটকে আছে। এখন গ্রাউন্ড টিম নভোচারীদের নির্দেশনা দিচ্ছে কীভাবে ফ্যানটি খুলে সেই জায়গাটি পরিষ্কার করে টয়লেটটি আবার সচল করা যায়।”
তবে বিকল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়াররা সমস্যাটির সমাধান করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভোচারীরা চাঁদ প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সিএ/এমআর


