মানব ইতিহাসের দীর্ঘ সময়জুড়ে মহাকাশ ছিল মানুষের নাগালের বাইরে এক বিস্তৃত শূন্যতা। তবে সাম্প্রতিক এক প্রজন্মের ব্যবধানে পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে বাড়তে এখন তা ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক নয়, বরং নতুন এক পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হিসেবেও সামনে এসেছে।
বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ১৪ হাজারেরও বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট ঘুরছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুল পরিমাণ মহাকাশ বর্জ্য বা স্পেস জাঙ্ক, যার মধ্যে রয়েছে অকেজো স্যাটেলাইট ও রকেটের ধ্বংসাবশেষ। এসব বস্তুর দ্রুতগতির চলাচল একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
২০০৭ সালে চীন একটি আবহাওয়া স্যাটেলাইট ধ্বংস করে মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে একটি মার্কিন স্যাটেলাইটের সঙ্গে রাশিয়ার একটি অকেজো স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে প্রায় দুই হাজার টুকরো ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়। এসব ছোট ধাতব খণ্ড এখনো কক্ষপথে বিপজ্জনক গতিতে ঘুরছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে থাকা কণার একটি অংশে মহাকাশ কার্যক্রম থেকে আসা ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এসব কণা বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করতে পারে এবং ওজোন স্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং মহাকাশ কার্যক্রমের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে টেকসই নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যতে কক্ষপথ এক ধরনের বিপজ্জনক ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
একই সময়ে মহাকাশ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানো এবং সেখানে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এতে মহাকাশ সম্পদ আহরণও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি মহাকাশ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত না করলে তা পৃথিবীর পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সিএ/এমআর


