ডিজিটাল যুগে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করা দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও পাসওয়ার্ড মনে রাখা বা নিরাপদ রাখা এখনো অনেকের জন্য ঝামেলার। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস স্ক্যান প্রযুক্তি কিছুটা স্বস্তি দিলেও সেগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীরা এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম ‘ভাইটাল আইডি’।
এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম কম্পনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের ফলে যে কম্পন তৈরি হয়, তা ঘাড় হয়ে মাথার খুলিতে পৌঁছায়। মানুষের হাড় ও টিস্যুর গঠন ভিন্ন হওয়ায় এই কম্পনের ধরণও আলাদা হয়, যা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতোই অনন্য পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, টেম্পল ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা যৌথভাবে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। ‘ভাইটাল আইডি’ মূলত এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি বা এক্সআর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ভার্চ্যুয়াল, অগমেন্টেড এবং মিক্সড রিয়েলিটির সমন্বয় ঘটে।
২০২৫ সালের এসিএম কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সিকিউরিটিতে এই প্রযুক্তি প্রথম উপস্থাপন করা হয়। গবেষকদের দাবি, এতে কোনো অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার প্রয়োজন নেই, কারণ আধুনিক হেডসেটের বিদ্যমান মোশন সেন্সর দিয়েই এটি কাজ করতে সক্ষম। রুটগার্স ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার প্রকৌশলী ইয়িনইয়িং চেন বলেন, ‘আমাদের কোনো অতিরিক্ত ডিভাইস বা হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই। এটি চালানোর জন্য কেবল সফটওয়্যারই যথেষ্ট।’
গবেষণায় ৫২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর প্রায় ১০ মাস ধরে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, প্রযুক্তিটি ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে পেরেছে এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে ৯৮ শতাংশের বেশি সফল হয়েছে। বড় ধরনের নড়াচড়া থেকে আসা বিঘ্ন দূর করতে একটি বিশেষ ফিল্টারিং সিস্টেমও ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি নকল করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ অন্য কারও শ্বাসপ্রশ্বাস অনুকরণ করলেও খুলির ভেতর দিয়ে কম্পনের সঠিক প্রবাহ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে না এলেও এর প্রভিশনাল পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে এবং গবেষণা সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
সিএ/এমআর


