পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল হলেও এই পথ দিয়েই বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। পাশাপাশি কৃষিতে ব্যবহৃত সারের সরবরাহেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই প্রণালির রয়েছে বিস্ময়কর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি পৃথিবীর এমন একটি স্থান, যেখানে দুটি মহাদেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে এখানে আরব্য প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের মধ্যে ছিল প্রাচীন টেথিস মহাসাগর। ধীরে ধীরে আরব্য প্লেট উত্তরের দিকে সরে গিয়ে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঢুকে পড়তে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় ভূমির স্তর কুঁচকে গিয়ে সৃষ্টি হয় জাগরোস পর্বতমালা।
গবেষণায় জানা যায়, প্লেটের এই চাপের ফলে কিছু অংশ নিচু হয়ে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো জলভাগ তৈরি হয়। তুষারযুগ শেষে বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে এই অঞ্চল আরও গভীর জলপথে পরিণত হয়।
এই অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। বহু বছর ধরে সমুদ্রতলের নিচে জমা হওয়া জৈব পদার্থ পরবর্তীতে তেল ও গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ভাঁজে এসব সম্পদ আটকা পড়ে, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওমানের মুসানদাম উপদ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় এমন অনেক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা সাধারণত সাগরের গভীরে থাকে কিন্তু এখানে ভূপৃষ্ঠে দৃশ্যমান। এছাড়া জাগরোস পর্বতমালায় লবণের স্তর পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে দেখা যায়, যা এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য।
গবেষকদের মতে, এই প্লেটের গতিবিধি এখনো চলমান রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আরও কয়েক কোটি বছর সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত এটি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবেই থাকবে।
সিএ/এমআর


