যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় রাডারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে ধরা হয়। তবে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় আধুনিক যুদ্ধবিমান এখন সেই রাডারের নজর এড়িয়ে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। অতীতে যুদ্ধবিমানগুলো রাডার এড়াতে মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ত। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নে ‘লুক-ডাউন’ রাডারের আবির্ভাব ঘটেছে, যা নিম্ন উচ্চতায় থাকা বস্তুকেও সহজে শনাক্ত করতে পারে। ফলে বর্তমান সময়ে যুদ্ধবিমানগুলো বহুমাত্রিক স্টেলথ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ অদৃশ্য এমন কোনো বিমান নেই। স্টেলথ প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হলো রাডারে বিমানের উপস্থিতি কমিয়ে আনা, যাতে শত্রুপক্ষ সহজে শনাক্ত করতে না পারে। এতে করে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায়। আধুনিক এফ-৩৫ বা এফ-২২ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ স্টেলথ প্রযুক্তিনির্ভর হলেও কিছু মডেলে আংশিক সিগনেচার কমানোর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
ইতিহাসে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে স্নায়ুযুদ্ধ পর্যন্ত ‘ফ্লাইং আন্ডার দ্য রাডার’ কৌশলটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। পৃথিবীর বক্রতার কারণে রাডার অনেক সময় নিচুতে থাকা বস্তুকে ধরতে পারত না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত মিসাইল প্রযুক্তির কারণে উচ্চতায় উড়ার কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং বিকল্প কৌশল হিসেবে ভূপ্রকৃতি অনুসরণ করে উড্ডয়ন জনপ্রিয় হয়।
বর্তমানে স্টেলথ বিমানের গঠন এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে রাডারের তরঙ্গ সরাসরি প্রতিফলিত না হয়ে ছড়িয়ে যায়। পাশাপাশি বিমানের গায়ে বিশেষ ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা রেডিও তরঙ্গ শোষণ করে নেয়। ফলে রাডারে বিমানের উপস্থিতি অনেক কম দেখা যায়।
রাডার ছাড়াও তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি থেকেও নিজেকে আড়াল করতে আধুনিক জেটের ইঞ্জিন ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। তাপ বিকিরণ কমিয়ে শত্রুর নজর এড়ানোই এর লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে, যা শত্রুর রাডার ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত বা অকার্যকর করে দিতে পারে।
সূত্র: সিম্পল ফ্লায়িং
সিএ/এমআর


