শহরের ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য ব্যবহৃত জেব্রা ক্রসিং নামটির উৎস নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। বাস্তবে এই ক্রসিং দিয়ে কখনো জেব্রা চলাচল করত কি না—এমন প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর না থাকলেও এর নামকরণের পেছনে রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা।
জেব্রা ক্রসিং সাধারণত রাস্তার ওপর সাদা-কালো বা হলুদ-সাদা ডোরাকাটা দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। এই নকশাটি জেব্রা প্রাণীর শরীরের ডোরার মতো হওয়ায় একে জেব্রা ক্রসিং বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দূর থেকে চালকদের সহজে সতর্ক করা এবং পথচারীদের পারাপার নিশ্চিত করা।
অনেক দেশে এই ধরনের ক্রসিংয়ে আলাদা কোনো সংকেত বাতি থাকে না। পথচারীদের নিজ দায়িত্বে দুই পাশ দেখে রাস্তা পার হতে হয়। তবে কিছু দেশে, বিশেষ করে উন্নত শহরগুলোতে, সিগন্যালযুক্ত ক্রসিং ব্যবস্থাও চালু রয়েছে, যেখানে লাল-সবুজ বাতির মাধ্যমে পথচারী ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে আরও কিছু ভিন্ন ধরনের পথচারী পারাপার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন পুফিন ও পেলিক্যান ক্রসিং, যেখানে পথচারীরা বোতাম চাপ দিয়ে সংকেত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। পুফিন ক্রসিংয়ে সংকেত পথচারীর পাশে দেখা যায়, আর পেলিক্যান ক্রসিংয়ে তা রাস্তার অপর পাশে প্রদর্শিত হয়। একইভাবে টুকিন ক্রসিংয়ে পথচারী ও সাইকেল আরোহী উভয়েই নিরাপদে পারাপারের সুযোগ পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম যাই হোক না কেন, এসব ক্রসিংয়ের মূল লক্ষ্য একটাই—সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা কমানো।
সিএ/এমআর


