পৃথিবীর বিশাল পর্বতমালা, ঘনঘন ভূমিকম্প কিংবা মহাদেশগুলোর ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার পেছনে কাজ করছে টেকটোনিক প্লেট। কিন্তু পুরো সৌরজগতের মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ও সুগঠিত টেকটোনিক প্লেট কেবল পৃথিবীতেই দেখা যায়—এ বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছেও এখনো এক বড় রহস্য হয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জিওডায়নামিসিস্ট ব্র্যাডফোর্ড ফোলি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা এর নিখুঁত উত্তর এখনো জানি না। আজকের দিনে ভূপ্রকৃতিবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত রহস্যগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম!’
পৃথিবীর লিথোস্ফিয়ার, অর্থাৎ ওপরের শক্ত আবরণ এবং ম্যান্টলের ওপরের অংশ, একটি আস্ত স্তর নয়; বরং এটি প্রায় ১৫টি বড় টুকরোয় বিভক্ত। এসব টুকরোকেই টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। এগুলো ক্রমাগত একে অপরের দিকে এগোয়, ধাক্কা খায় অথবা দূরে সরে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে প্লেটগুলো সচল থাকার পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মহাসাগরের পানি। জিওফিজিসিস্ট রাসেল পিসক্লিওয়েক ব্যাখ্যা করেন, যখন দুটি প্লেট মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং একটি অন্যটির নিচে ঢুকে যায়, তখন সমুদ্রের পানি সেই পাথরের স্তরের সঙ্গে নিচে চলে যায়। এই পানি পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে, ফলে প্লেটগুলো সহজে একে অপরের ওপর দিয়ে সরে যেতে পারে।
অন্যদিকে, সৌরজগতের অন্যান্য পাথুরে গ্রহে এমন পরিস্থিতি দেখা যায় না। উদাহরণ হিসেবে মঙ্গলের কথা বলা যায়। সেখানে ম্যান্টলের ভেতরে তাপগত নড়াচড়া থাকলেও ভূত্বকটি একটিমাত্র বিশাল ও অখণ্ড স্তর হিসেবে রয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘স্ট্যাগন্যান্ট লিড’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে পৃথিবীর বাইরে কিছু আংশিক মিল পাওয়া গেছে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায়। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপার বরফের খোলসে কিছু প্লেট সদৃশ গঠন তৈরি হয়ে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। তবে এগুলো পৃথিবীর মতো স্থায়ী ও ব্যাপক নয় এবং পুরো উপগ্রহজুড়ে ঘটে না।
বিজ্ঞানীদের মতে, মূল সমস্যা হলো তুলনা করার মতো পর্যাপ্ত গ্রহের অভাব। পৃথিবীর মতো আরও অনেক পাথুরে গ্রহ পর্যবেক্ষণ করা গেলে টেকটোনিক প্লেট তৈরির সঠিক কারণ নির্ণয় করা সহজ হতো।
সিএ/এমআর


