যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক সামরিক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রযুক্তি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে আকাশপথে পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি এসব ড্রোনের মাধ্যমে ব্যয়বহুল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের ব্যবহৃত এসব ড্রোনের উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও এগুলোর আঘাতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কম খরচে বেশি ক্ষতির এই কৌশল যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই প্রেক্ষাপটে গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক শ্মিটের পুরোনো মন্তব্য আবারও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো ব্যয়বহুল ট্যাংক ও যুদ্ধজাহাজে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। তার মতে, প্রতিরক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সস্তা ও ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য ড্রোন প্রযুক্তির ওপর।
এক অনুষ্ঠানে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি ৫ হাজার ডলারের ড্রোন সহজেই ৫০ লাখ ডলারের ট্যাংক ধ্বংস করতে পারে, যা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বদলে দেয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ট্যাংকের পরিবর্তে ড্রোনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় ড্রোন প্রযুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিপক্ষের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে বহু ড্রোন আক্রমণ করলে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। তৃতীয়ত, দ্রুতগতির এসব ড্রোন প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্রিয় হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম।
সিএ/এমআর


