সমুদ্রের অন্যতম শীর্ষ শিকারি হিসেবে পরিচিত হাঙরের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আগে ধারণা করা হতো, দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে হাঙরের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে ওর্কা তিমির ভূমিকা প্রধান। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মানুষের কার্যক্রমই হাঙর বিলুপ্তির বড় কারণ হয়ে উঠছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার গান্সবাই উপকূলে পোর্ট ও স্টারবোর্ড নামের দুটি ওর্কা তিমি হাঙর শিকারের জন্য পরিচিত। এরা বিশেষ কৌশলে হাঙরের শরীর থেকে লিভার আলাদা করে খেয়ে ফেলে। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে অন্তত ১১টি হাঙর তাদের শিকারে পরিণত হয়েছে। এমনকি এক দিনে ১৭টি হাঙর শিকারের ঘটনাও ঘটেছে।
তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, এই শিকার প্রাকৃতিক চক্রের অংশ হলেও মানুষের মাধ্যমে হাঙর নিধনের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের অনিয়ন্ত্রিত শিকার ও সামুদ্রিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার হাঙরের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ওশেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক এনরিকো জেনারি বলেন, ওর্কাদের শিকার সীমিত হলেও মানুষের কার্যক্রম ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ফলে হাঙর তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় হাঙর সংরক্ষণের পরিবর্তে তাদের বিলুপ্তির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এমআর


