সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্তে মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই সিস্টেম ব্যবহারের দিকেই এগোচ্ছে মেটা। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে উন্নত প্রযুক্তি চালু করা হবে এবং কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে সেটিকে স্থায়ীভাবে প্রয়োগ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, সহিংস বা বীভৎস কনটেন্ট শনাক্ত করা এবং প্রতারকদের পরিবর্তিত কৌশল মোকাবিলা করা মানুষের জন্য জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এআই ব্যবহারে এসব ক্ষেত্রে দ্রুততা ও নির্ভুলতা বাড়ানো সম্ভব হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নতুন এআই সিস্টেম মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ হারে যৌন প্রস্তাবসংক্রান্ত কনটেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভুলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজারো প্রতারণার প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মেটা। বিশেষ করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, অস্বাভাবিক লগইন প্রচেষ্টা এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে।
তবে পুরো প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। এআই প্রশিক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকবেন মানব বিশেষজ্ঞরা। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেমন অ্যাকাউন্ট বন্ধের আপিল বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকাই চূড়ান্ত থাকবে।
গত এক বছরে কনটেন্ট নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন এনেছে মেটা। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর থার্ড-পার্টি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে কমিউনিটি নোটস চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কনটেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারকারীদের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা চালু একটি এআই সহকারীও চালুর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের সহায়তা দেবে। শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে বৈশ্বিক চাপের মুখে থাকা মেটার এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
সিএ/এমআর


