সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ শুধু শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণেই নয়, বরং মাদক ও অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা বলছেন, এসব ওষুধ মস্তিষ্কের সেই অংশে প্রভাব ফেলে, যা আনন্দ ও পুরস্কারের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত—ফলে নেশার প্রতি আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পেতে পারে।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব ওষুধ অ্যালকোহল, তামাক, গাঁজা ও কোকেনের মতো মাদকের প্রতি আসক্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যারা আগে মাদকাসক্ত ছিলেন না, তাদের ক্ষেত্রেও এই ওষুধ গ্রহণের ফলে নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
গবেষণায় ব্যবহৃত ‘জিএলপি-১’ ধরনের ওষুধ সাধারণত টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এগুলো খাওয়ার পর শরীরে যে প্রাকৃতিক হরমোন তৈরি হয়, তার অনুরূপ কাজ করে এবং পেট ভরা থাকার অনুভূতি সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে মস্তিষ্কের পুরস্কারপ্রদানকারী অংশে প্রভাব ফেলে নেশার চাহিদা কমাতে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এ গবেষণায় ছয় লাখের বেশি টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর তিন বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, অন্যান্য ওষুধ গ্রহণকারীদের তুলনায় জিএলপি-১ ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে গাঁজা ব্যবহার ১৪ শতাংশ, কোকেন ও নিকোটিন ২০ শতাংশ এবং ওপিওয়েডজাতীয় মাদকের ব্যবহার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
এছাড়া যারা আগে থেকেই মাদকাসক্ত, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক গ্রহণের ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ, জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ক্লেয়ার অ্যান্ডারসন বলেছেন, “গবেষণাটি সেই নতুন গবেষণার তালিকায় যোগ হল, যা খতিয়ে দেখছে ‘জিপিএল-১’ ওষুধগুলো মস্তিষ্কের আনন্দ ও আসক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে প্রভাবিত করতে পারে কি না।
“এ পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় এ বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি যে, এসব ওষুধ সরাসরি নেশা প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে এমনটি এখনও প্রমাণিত নয়। জিপিএল-১ ওষুধের সরাসরি কোনো প্রভাব আছে কি না তা নিশ্চিত হতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ আরও গবেষণার প্রয়োজন।”
ন্যাশনাল ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর গ্যারেথ জোনস বলেছেন, “গুরুত্বপূর্ণ এ গবেষণা থেকে ইঙ্গিত মেলে, ওজন কমানোর এ চিকিৎসার মাধ্যমে হয়ত আরও অন্যান্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত সুবিধাও পাওয়া সম্ভব।
“এসব ওষুধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য জানতে পারছি। তবে যারা এই ওষুধের জন্য উপযোগী এবং যাদের সত্যিই ওষুধটি প্রয়োজন তাদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এ বিষয়টি স্পষ্ট।”
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব ওষুধ বন্ধ করে দিলে হারানো ওজনের বড় অংশ আবার ফিরে আসার প্রবণতা রয়েছে। এক বছরের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ওজন ফিরে আসতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সিএ/এমআর


