ঘুমের সময় শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার জটিল সমস্যা স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সিপ্যাপ প্রযুক্তি। তবে এই প্রচলিত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণে এখন বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে জোরালো গবেষণা শুরু হয়েছে।
১৯৮১ সালে উদ্ভাবিত ‘কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার’ বা সিপ্যাপ যন্ত্রটি ঘুমের সময় মুখে মাস্কের মাধ্যমে বাতাস প্রবাহিত করে শ্বাসনালী খোলা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, এটি এখনও সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি হলেও অনেক রোগীর জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সিপ্যাপ ব্যবহারে মৃত্যুঝুঁকি ও হৃদরোগের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তবে বাস্তবে অনেকেই মুখে মাস্ক পরে ঘুমাতে অস্বস্তি অনুভব করেন, যা এর ব্যবহার কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা শুরুর কয়েক মাস পরই ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগলেও তাদের বড় অংশ এখনও শনাক্ত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিচ্ছেন গবেষকরা।
এর মধ্যে একটি নতুন যন্ত্র ‘জিউসওএসএ’, যা চিবুকের নিচে পরে হালকা বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে। এতে ঘুমের সময় পেশির শিথিলতা কমে গিয়ে শ্বাসনালী বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
এছাড়া ‘ম্যান্ডিবুলার অ্যাডভান্সমেন্ট ডিভাইস’ বা এমএডি নামের আরেকটি পদ্ধতিতে মুখরক্ষকের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে নিচের চোয়াল সামান্য এগিয়ে রাখা হয়, যাতে শ্বাসনালী খোলা থাকে।
অন্যদিকে ‘ইনস্পায়ার থেরাপি’ নামে একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে শরীরে ইমপ্লান্ট বসিয়ে স্নায়ু উদ্দীপনার মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। এতে ঘুমঘুম ভাব ও নাক ডাকার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বলে জানা গেছে।
ওষুধভিত্তিক চিকিৎসাও সামনে আসছে। কিছু নতুন ওষুধ শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে শ্বাসনালীর স্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নতুন প্রযুক্তি এলেও সিপ্যাপ এখনও কার্যকর একটি পদ্ধতি। তাদের মতে, সমস্যা যন্ত্রে নয়, বরং নিয়মিত ব্যবহারের অভ্যাসে।
সিএ/এমআর


