মহাকাশে একেবারে ভিন্ন ধরনের একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এই গ্রহটি লাভার বিশাল মহাসাগর এবং সালফারসমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল দিয়ে ঘেরা, যা একে অন্যসব পরিচিত গ্রহ থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রহটির অভ্যন্তরে রয়েছে গলিত পাথরের স্থায়ী স্তর বা ম্যাগমা মহাসাগর। এই ম্যাগমা বিপুল পরিমাণ সালফার ধরে রাখতে সক্ষম, যা গ্রহটির বায়ুমণ্ডলকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘এল ৯৮-৫৯ ডি’ নামের এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তন করছে। আকারে এটি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৬ গুণ বড় এবং এর বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিভিন্ন সালফারযুক্ত গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে।
এর আগে বিজ্ঞানীরা গ্রহকে মূলত পাথুরে গ্রহ বা গ্যাস ডোয়ার্ফ ও পানির গ্রহ হিসেবে ভাগ করতেন। তবে নতুন এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, এসব শ্রেণিবিন্যাসের বাইরে আরও জটিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে, যা প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
গবেষকরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গ্রহটির জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত বিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা যায়, গ্রহটির ম্যান্টল অংশ গলিত সিলিকেট দিয়ে গঠিত এবং এর নিচে বিস্তৃত ম্যাগমা স্তর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই ম্যাগমা স্তর গ্রহটির গভীরে সালফার জমা রাখার পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে থাকা গ্যাসগুলোকে ধরে রাখতে সহায়তা করছে। অন্যথায়, নক্ষত্র থেকে আসা উচ্চমাত্রার বিকিরণে এসব গ্যাস মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
গবেষণার প্রধান লেখক হ্যারিসন নিকোলস বলেন, “এ আবিষ্কার আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে, ছোট বিভিন্ন গ্রহকে বর্ণনার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বর্তমানে যেসব শ্রেণিবিভাগ ব্যবহার করেন, সেগুলো সম্ভবত অনেক বেশি সরল।
“এ ফুটন্ত গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা কম থাকলেও গ্রহটি আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা বিভিন্ন গ্রহের বৈচিত্র্যকেই তুলে ধরেছে।
“আমরা এখন প্রশ্ন করতেই পারি, মহাকাশে আরও কত ধরনের রহস্যময় গ্রহ আমাদের আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে?”
গবেষণাটি ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ ধরনের আরও অনেক গ্রহ মহাবিশ্বে থাকতে পারে।
সিএ/এমআর


