মহাকাশবিজ্ঞানের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় এক্সোপ্ল্যানেট বা সৌরজগতের বাইরের গ্রহ। দূরবর্তী এসব গ্রহ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। নক্ষত্রের তীব্র আলো ও বিপুল দূরত্বের কারণে এগুলো সরাসরি দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গ্যালিলিওর দূরবীন আবিষ্কারের পর প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করতে বিজ্ঞানীদের শতাব্দীর পর শতাব্দী সময় লেগেছে। কারণ, এসব গ্রহ তাদের নিজস্ব আলো দেয় না এবং নক্ষত্রের উজ্জ্বলতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতি, যেখানে গ্রহের মহাকর্ষীয় প্রভাবে নক্ষত্রের সামান্য দোলন বিশ্লেষণ করা হয়। নক্ষত্রের আলোয় সূক্ষ্ম রঙ পরিবর্তন দেখে এই উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব।
আরেকটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি ট্রানজিট মেথড। কোনো গ্রহ তার নক্ষত্র ও পর্যবেক্ষকের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করলে নক্ষত্রের আলো সামান্য কমে যায়। এই নিয়মিত আলো কমার ঘটনা বিশ্লেষণ করে গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।
গ্র্যাভিটেশনাল মাইক্রোলেন্সিং পদ্ধতিতেও গ্রহ শনাক্ত করা যায়। এতে একটি নক্ষত্রের মহাকর্ষ অন্য নক্ষত্রের আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। এই সময় আলোর উজ্জ্বলতায় ক্ষণিক পরিবর্তন দেখা গেলে গ্রহের উপস্থিতির ইঙ্গিত মেলে।
এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি এক্সোপ্ল্যানেটের ছবি তোলাও সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও উষ্ণ গ্রহগুলো ইনফ্রারেড আলোতে উজ্জ্বল হওয়ায় তাদের শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ।
বিজ্ঞানীরা এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছেন। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


