জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ি কর্মসূচির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুত প্রসারমান বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোন্ডা সম্প্রতি বৈদ্যুতিক অ্যাকুরা আরডিএক্স মডেলসহ হোন্ডা ০ সিরিজের সেডান ও এসইউভি গাড়ির উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এছাড়া হোন্ডা প্রোলগ নামের বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন বন্ধ করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই প্রোলগ মডেলটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেনারেল মোটরসের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, হোন্ডার এই সিদ্ধান্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বব্যাপী গাড়ি শিল্পে বর্তমানে দুটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন দ্রুত এগিয়ে আসছে। এর একটি হলো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক চালনাব্যবস্থা এবং অন্যটি সফটওয়্যারনির্ভর গাড়ি প্রযুক্তি। আধুনিক গাড়িতে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, উন্নত তথ্য-বিনোদন ব্যবস্থা এবং উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই প্রতিযোগিতায় ইতোমধ্যে টেসলা, রিভিয়ান এবং বিওয়াইডির মতো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তারা নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং উন্নত গাড়ি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
অন্যদিকে চীনের বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছে হোন্ডা। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের তুলনায় একই দামে উন্নত মানের পণ্য দিতে না পারায় প্রতিযোগিতায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিলে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে অবস্থান ধরে রাখা হোন্ডার জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এমআর


