রমজান মাসে ইবাদত, প্রশান্তি ও পারিবারিক বন্ধনের পাশাপাশি প্রতিটি ঘরেই ইফতার প্রস্তুতির ব্যস্ততা দেখা যায়। ইফতারের আগে কয়েক ঘণ্টা রান্নাঘরে চলে নানা ধরনের প্রস্তুতি, যেখানে রান্নার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সময়টি হয়ে ওঠে বেশ চাপের। ডাইনিং টেবিলে সেই ব্যস্ততার প্রভাব কম থাকলেও রান্নাঘর অনেক সময় তীব্র গরম ও ক্লান্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে আধুনিক রান্নাঘরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। ২০২৬ সালে স্মার্ট কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের ব্যবহার বাড়ার ফলে ইফতার প্রস্তুতির কাজ আগের তুলনায় সহজ হয়ে উঠছে। এই প্রযুক্তিগুলো রান্নার সময় নিয়ন্ত্রণ, তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী রান্না সম্পন্ন করার মতো কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।
ফলে রান্নাঘরের ব্যস্ততার মাঝেও অনেকেই এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা ইবাদতের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিতে পারছেন। বিশেষ করে স্মার্ট ওভেন ও আধুনিক রান্নার যন্ত্রগুলো রান্নার কাজকে দ্রুত ও সহজ করে তুলছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্যামসাংয়ের মাইক্রোওয়েভ ওভেন শুধু খাবার গরম করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে সহজ প্রিসেট রেসিপি সুবিধা। ব্যবহারকারীরা বিল্ট-ইন মেনু থেকে একটি পদ নির্বাচন করলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওভেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না সম্পন্ন করতে পারে। এতে ইফতারের ব্যস্ত সময়ে রান্নার ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।
একইভাবে স্লিম ফ্রাই প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুচা বা পাকোড়ার মতো জনপ্রিয় ইফতারি কম তেলে তৈরি করা সম্ভব। এই প্রযুক্তিতে ডিপ-ফ্রাইয়ের পরিবর্তে গরম বাতাসের সঞ্চালনের মাধ্যমে খাবার রান্না করা হয়। এতে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত তেল কম ব্যবহার করেও খাবারের স্বাদ বজায় রাখা যায় এবং খাবার তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর থাকে।
প্রযুক্তিনির্ভর এসব কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স রান্নার সময় কমিয়ে দিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ইবাদতে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। ফলে রমজানের আসল সৌন্দর্য—পরিবারের সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করা এবং প্রশান্ত মুহূর্ত উপভোগ করা—আরও সহজ হয়ে উঠছে।
সিএ/এমআর


