মেক্সিকোর কাবো সান লুকাসের একটি সৈকতে সম্প্রতি বিরল প্রজাতির দুইটি ওরফিশ ভেসে আসার ঘটনা কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত মাসে সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে দুই মার্কিন পর্যটক এই বিশাল আকৃতির মাছ দেখতে পান। প্রাচীন লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই রহস্যময় মাছকে অনেক সময় বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম বার্তাবাহক হিসেবে ধরা হয়।
পর্যটক মোনিকা পিটেঞ্জার এবং তার বোন কেটি সৈকতে হাঁটার সময় দেখতে পান, দুটি বিশালাকার ওরফিশ উপকূলে ভেসে এসেছে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী এই মাছ মানুষের চোখে খুব কমই পড়ে। ফলে একই সঙ্গে দুটি ওরফিশ উপকূলে দেখা যাওয়ার ঘটনা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছে।
জাপানের প্রাচীন লোককথায় ওরফিশকে ‘প্রলয়ংকরী মাছ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই মাছ সমুদ্র দেবতার প্রাসাদের বার্তাবাহক। লোককথা অনুযায়ী, কোনো ওরফিশ যদি উপকূলে ভেসে ওঠে, তবে তা শক্তিশালী ভূমিকম্প বা সুনামির মতো বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে।
ওরফিশ সাধারণত সমুদ্রের প্রায় তিন হাজার ফুট বা তারও বেশি গভীরতায় বসবাস করে, যাকে টোয়াইলাইট জোন বলা হয়। এই অঞ্চল এতটাই গভীর ও রহস্যময় যে সেখানে খুব কম মানুষেরই পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ফলে এই মাছ সম্পর্কে মানুষের জানা-শোনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক শতাব্দীতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে মাত্র ১৯ বার এই মাছ দেখার তথ্য পাওয়া গেছে।
পর্যটকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা যে মাছ দুটি দেখেছিলেন সেগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট ছিল। রুপালি ফিতার মতো দেখতে মাছগুলো বালুর ওপর পড়ে ছটফট করছিল এবং গভীর পানিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অনেকেই দূর থেকে ঘটনাটি দেখছিলেন, তবে কেটি সাহস করে এগিয়ে যান এবং অন্যদের সহযোগিতায় মাছ দুটিকে সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় পাঁচ থেকে ছয়জন মানুষের সম্মিলিত চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত মাছগুলোকে আবার গভীর পানিতে পাঠানো সম্ভব হয়।
ওরফিশ নিয়ে দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্পর্কিত ধারণা অন্তত ১৭শ শতক থেকে প্রচলিত। আধুনিক সময়েও কিছু কাকতালীয় ঘটনার কারণে এই বিশ্বাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১১ সালে জাপানের তোহোকু অঞ্চলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির কয়েক মাস আগে জাপানের উপকূলে প্রায় দুই ডজন ওরফিশ ভেসে ওঠার খবর পাওয়া যায়। সেই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ২০১৭ সালে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্কের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সাধারণত অসুস্থ হয়ে পড়া বা মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছালে এই মাছগুলো গভীর সমুদ্র ছেড়ে উপকূলের দিকে চলে আসে। পূর্ণবয়স্ক একটি ওরফিশ প্রায় ৩৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর ওজন ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
সিএ/এমআর


