গরমের মৌসুম শুরু হলেই বাড়তে থাকে এসির ব্যবহার। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে এসি সার্ভিসিং ও গ্যাস রিফিলের কথাবার্তা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসি সার্ভিসিং করতে এসে টেকনিশিয়ান সহজেই বলে দেন যে এসির গ্যাস শেষ হয়ে গেছে এবং তা আবার ভরতে হবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে একটি এসির গ্যাস সাধারণত নিজে থেকে শেষ হয়ে যায় না। কোথাও লিক বা ত্রুটি থাকলেই কেবল গ্যাস বেরিয়ে যেতে পারে।
তাই শুধু টেকনিশিয়ানের কথার ওপর নির্ভর না করে কিছু সাধারণ লক্ষণ লক্ষ্য করলে ব্যবহারকারীরাই বুঝতে পারেন সত্যিই এসির গ্যাস কমেছে কি না। কয়েকটি সহজ বিষয় খেয়াল করলে বোঝা যায় এসিতে গ্যাস রিফিল প্রয়োজন কিনা, নাকি অযথা অতিরিক্ত খরচ করতে বলা হচ্ছে।
প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে এসি আগের মতো ঠান্ডা করছে কি না। সাধারণত গ্যাসের পরিমাণ কমে গেলে এসির কুলিং ক্ষমতাও কমে যায়। তাই সার্ভিসিংয়ের আগে কিছু সময় এসি চালিয়ে তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। যদি সার্ভিসিংয়ের আগে এসি স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা দেয়, কিন্তু পরে কুলিং কমে যায়, তাহলে সেটি সার্ভিসিংজনিত ত্রুটিও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস রিফিলের আগে বিষয়টি আবার যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া গ্যাস কমে গেলে অনেক সময় ইনডোর ইউনিটের কয়েলে বরফ জমতে দেখা যায়। গ্যাসের চাপ কম থাকলে কয়েল অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা সেখানে জমে বরফে পরিণত হয়। ফলে এসির পাইপ বা কয়েলে বরফ জমা গ্যাস কমে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আউটডোর ইউনিটের পাইপে তেলের দাগ থাকলেও তা গ্যাস লিকের ইঙ্গিত দিতে পারে। এসি সিস্টেমে গ্যাসের সঙ্গে বিশেষ ধরনের তেলও চলাচল করে। কোথাও লিক থাকলে গ্যাস দ্রুত উড়ে গেলেও তেল অনেক সময় পাইপের গায়ে লেগে থাকে। তাই পাইপে আঠালো বা তেলের মতো দাগ দেখা গেলে সেখানে লিক থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এমন কোনো দাগ না থাকলে গ্যাস লিকের দাবি অনেক সময় সন্দেহজনক হতে পারে।
গ্যাস লিক আছে কি না তা বোঝার সহজ একটি উপায় হলো বাবল টেস্ট। এতে পাইপের জোড়ার স্থানে সাবান বা ডিটারজেন্ট মেশানো পানি লাগানো হয়। যদি সেখান দিয়ে গ্যাস বের হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বুদবুদ তৈরি হয়। আর বুদবুদ না হলে ধরে নেওয়া যায় সেখানে লিক নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্যাস রিফিল করলে শুধু অর্থের অপচয়ই হয় না, বরং সমস্যার প্রকৃত কারণও অজানা থেকে যেতে পারে। তাই সচেতন হয়ে এসব লক্ষণ যাচাই করলে ব্যবহারকারীরা সহজেই অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়াতে পারেন।
সিএ/এমআর


