সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটের দিকে অনুভূত একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৪। হঠাৎ কম্পন শুরু হতেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ আতঙ্কে বহুতল ভবন থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব। শুধু মূল ভূমিকম্পই নয়, সম্ভাব্য আফটারশক সম্পর্কেও অ্যালার্ট দিতে পারে আধুনিক স্মার্টফোন।
গুগলের ক্রাইসিস রেসপন্স ওয়েবপেজের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম নামের একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কাছাকাছি এলাকায় ভূমিকম্প শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই ব্যবহারকারীর ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
এই কয়েক সেকেন্ড সময় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পান।
গুগলের পাশাপাশি আরও কিছু মোবাইল অ্যাপেও ভূমিকম্প সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। তবে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা ফোনের নোটিফিকেশন বা অ্যালার্ট ব্যবস্থা বন্ধ করে রাখেন। ফলে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছালেও তা দেখা যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোনের সেটিংসে এই সুবিধা চালু রাখলে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প বা আফটারশকের সময় দ্রুত অ্যালার্ট পাওয়া সম্ভব। এজন্য স্মার্টফোনে অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় থাকতে হবে।
ভূমিকম্প অ্যালার্ট চালু করার জন্য ব্যবহারকারীকে ফোনের সেটিংসে গিয়ে সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর আর্থকোয়াক অ্যালার্টস অপশনটি চালু করতে হবে। পাশাপাশি এমার্জেন্সি এসওএস সুবিধাটিও সক্রিয় করে রাখা ভালো।
এই সেটিংস চালু থাকলে ভূমিকম্প বা পরবর্তী আফটারশকের সময় স্মার্টফোন থেকেই দ্রুত সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা করতে পারে।
সিএ/এমআর


