অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইউটিউব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ভিডিও দেখা, শোনা বা শেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। সহজ স্ট্রিমিং, বিভিন্ন রেজল্যুশনে ভিডিও দেখার সুবিধা এবং প্লেব্যাক স্পিড নিয়ন্ত্রণের মতো ফিচারের কারণে ইউটিউব ব্যবহারকারীদের কাছে বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। তবে অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না যে এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে এমন কিছু লুকানো কৌশল, যা জানলে ইউটিউব ব্যবহার আরও সহজ ও স্মার্ট হয়ে উঠতে পারে।
ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ খুঁজে পেতে ট্রান্সক্রিপ্ট ফিচার ব্যবহার করা যায়। অধিকাংশ ভিডিওতেই সাবটাইটেল বা স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সক্রিপ্ট থাকে। ভিডিওর বর্ণনায় গিয়ে Show Transcript চালু করলে পুরো ভিডিওর লেখা দেখা যায়। এরপর কিবোর্ডে Ctrl+F বা ম্যাকে Cmd+F চাপলে নির্দিষ্ট শব্দ খুঁজে সরাসরি সেই অংশে যাওয়া সম্ভব।
দীর্ঘ ভিডিও দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে স্লিপ টাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিডিওর সেটিংসে গিয়ে Sleep timer চালু করলে ১০ থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা যায়। চাইলে ভিডিও শেষ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা যায়।
কোনো ভিডিওর নির্দিষ্ট সময়ের অংশ অন্যকে দেখাতে চাইলে সেই অংশের লিংক শেয়ার করার সুবিধাও রয়েছে। ওয়েবে ভিডিওতে রাইট–ক্লিক করে Copy video URL at Current Time নির্বাচন করলে নির্দিষ্ট সময়সহ লিংক কপি করা যায়। মোবাইল অ্যাপেও শেয়ার অপশনে সময় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
ভিডিও দ্রুত সামনে বা পেছনে নেওয়ার জন্য মোবাইলে স্ক্রিনের বাম পাশে ডাবল ট্যাপ করলে ভিডিও ১০ সেকেন্ড পেছাবে এবং ডান পাশে ট্যাপ করলে ১০ সেকেন্ড এগিয়ে যাবে। ওয়েবে কিবোর্ডের বাম ও ডান অ্যারো ব্যবহার করে ৫ সেকেন্ড করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া J, K ও L কী ব্যবহার করেও ভিডিও চালানো বা থামানো এবং সামনে–পেছনে নেওয়া সম্ভব।
ভিডিওর কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্য খুঁটিয়ে দেখতে চাইলে ফ্রেম বাই ফ্রেম দেখার সুবিধাও রয়েছে। ভিডিও থামিয়ে ওয়েবে কমা বা ডট চাপলে এক ফ্রেম করে সামনে বা পেছনে যাওয়া যায়। ছোট লেখা বা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দেখার ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর।
মোবাইলে ভিডিও দেখার সময় স্ক্রিনে চাপ দিয়ে ধরে রাখলে ভিডিও সাময়িকভাবে দ্বিগুণ গতিতে চলতে থাকে। স্ক্রিন থেকে হাত সরিয়ে নিলে ভিডিও আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে।
মোবাইল অ্যাপে ভিডিও কোয়ালিটিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা যায়। সেটিংসে গিয়ে মোবাইল ডেটা এবং ওয়াই–ফাই ব্যবহারের জন্য আলাদা ভিডিও মান ঠিক করা সম্ভব। এতে ইন্টারনেট ডেটা সাশ্রয় করা যায়।
একই ধরনের ভিডিও বারবার সাজেশন হিসেবে দেখতে না চাইলে ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করা যায়। ইউটিউব অ্যাপের You ট্যাবে গিয়ে Turn on incognito চালু করলে দেখা ভিডিও হিস্ট্রিতে যুক্ত হয় না এবং অ্যালগরিদমেও তার প্রভাব পড়ে না।
যদি ইনকগনিটো চালু না করে কোনো ভিডিও দেখে ফেলেন, তাহলে ওয়াচ হিস্ট্রিতে গিয়ে নির্দিষ্ট ভিডিওর পাশে থাকা তিন ডট মেনু থেকে Remove from watch history নির্বাচন করে তা মুছে ফেলা যায়।
এছাড়া ইউটিউব ব্যবহারে কিছু কিবোর্ড শর্টকাটও বেশ কার্যকর। ওপরের বা নিচের অ্যারো দিয়ে ভলিউম বাড়ানো বা কমানো, Shift+> দিয়ে গতি বাড়ানো, Shift+< দিয়ে গতি কমানো, M দিয়ে মিউট, F দিয়ে ফুলস্ক্রিন এবং T দিয়ে থিয়েটার মোড চালু করা যায়। সঠিক কৌশল জানা থাকলে ইউটিউব শুধু ভিডিও দেখার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং আরও কার্যকর একটি ডিজিটাল টুল হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এমআর


