ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটক শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্য সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাজ্যের বাজেট বক্তৃতায় কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশ ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতে সরকার বয়সভিত্তিক এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের কোনো রাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিশুদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা এটিই প্রথম। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য পরিচিত প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কর্ণাটক দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবুও শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়াও শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই ধরনের নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও গ্রিসেও।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজার হিসেবে বিবেচিত। দেশে প্রায় ১০০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে এবং প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম মেটা–এর জন্যও এটি অন্যতম বৃহৎ বাজার। এখানে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, কেবল বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে শিশু-কিশোররা ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সহজেই এসব সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে কর্ণাটকের প্রতিবেশী রাজ্য গোয়াও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি আইন প্রস্তাব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


