ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে হঠাৎ বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার খবর প্রকাশের পর দেশটির ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোটি কোটি ডলারের সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ব্লকচেইন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল সোয়া ৬টার দিকে হামলার প্রথম খবর প্রকাশের পরপরই ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তোলনের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। মার্কিন ব্লকচেইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিস জানিয়েছে, হামলা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো থেকে ২০ লাখ ডলারের বেশি সমমূল্যের ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ ব্লকচেইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলিপটিক জানিয়েছে, শনিবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ নোবিটেক্স থেকে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি তোলা হয়েছে। এই পরিমাণ আগের দিনের সর্বোচ্চ প্রতি ঘণ্টার উত্তোলনের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।
চেইনালাইসিসের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরানি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো থেকে মোট প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ উত্তোলনের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি গবেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা সামরিক সংঘাতের সময় ইরানে সাধারণত ক্রিপ্টো লেনদেন বেড়ে যায়। দেশটির অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রভাবও ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ইরানে ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৮০০ থেকে ১১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
গবেষকরা বলছেন, ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাধারণত ছদ্মনামে পরিচালিত হয় এবং ব্লকচেইনে অক্ষর ও সংখ্যার দীর্ঘ কোড আকারে লেনদেনের রেকর্ড থাকে। ফলে অর্থ সরানোর পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
চেইনালাইসিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অর্থ প্রবাহের একটি অংশ সাধারণ ইরানিদের হতে পারে, যারা যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় নিজেদের সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে কিছু লেনদেন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর নিজস্ব তারল্য পুনর্গঠন বা কার্যক্রমের দৃশ্যমানতা কমানোর প্রচেষ্টাও হতে পারে।
ইলিপটিকের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ বিদেশি বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা সম্ভাব্যভাবে দেশ থেকে পুঁজি পাচারের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে আরেকটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিআরএম মনে করছে, এই অর্থ প্রবাহ পদ্ধতিগত পুঁজি পাচারের চেয়ে অস্থির পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের চাপের প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও যেসব দেশের মুদ্রা দুর্বল, সেখানে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে পারে।
সিএ/এমআর


