মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে—এক ঘর থেকে আরেক ঘরে গিয়ে হঠাৎ মনে থাকে না কেন সেখানে আসা হয়েছিল। অনেকেই ফ্রিজ খুলে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকেন কী নেওয়ার জন্য ফ্রিজ খুলেছিলেন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতাকে বলা হয় ডোরওয়ে ইফেক্ট।
ডোরওয়ে ইফেক্ট মূলত একটি মনোবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। যখন একজন ব্যক্তি একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবেশ করেন, তখন তার মস্তিষ্ক আগের কাজ বা উদ্দেশ্যকে দ্রুত ভুলে যেতে পারে। এটি সাধারণত মনোযোগের ঘাটতি নয়; বরং স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক আচরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের মস্তিষ্ক আশপাশের অভিজ্ঞতাগুলোকে আলাদা আলাদা পর্বে ভাগ করে রাখে। যখন কেউ একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে অন্য কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন মস্তিষ্ক এটিকে একটি নতুন ঘটনার সূচনা হিসেবে বিবেচনা করে। সেই মুহূর্তে আগের ঘরে থাকা উদ্দেশ্য বা চিন্তা ‘ইভেন্ট বাউন্ডারি’ হিসেবে আলাদা হয়ে যায় এবং নতুন পরিবেশের তথ্য মস্তিষ্কে বেশি গুরুত্ব পায়।
এ কারণে নতুন জায়গায় পৌঁছে অনেক সময় আগের উদ্দেশ্য স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি থেকে মুছে যেতে পারে। ফ্রিজ খোলা, ফোন হাতে নেওয়া কিংবা অন্য ঘরে যাওয়ার সময় এই অভিজ্ঞতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে মনোযোগ অন্যদিকে থাকলে ডোরওয়ে ইফেক্ট আরও বেশি প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একটি ঘর থেকে অন্য ঘরে গিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়, তারা আগের ঘরের তথ্য তুলনামূলক কম মনে রাখতে পারে। তবে যদি কেউ কোনো কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকে, তাহলে স্থান পরিবর্তনের পরও এই প্রভাব অনেক কম হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোরওয়ে ইফেক্ট কোনো রোগ বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের লক্ষণ নয়। এটি মস্তিষ্কের তথ্য সংগঠনের একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। তাই এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার সময় উদ্দেশ্যটি মনে মনে পুনরাবৃত্তি করলে বা মনোযোগ ধরে রাখলে এই ধরনের ভুলে যাওয়ার ঘটনা কিছুটা কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


