চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়। ফলে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে, এ সময় চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার বা কালো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ ধীরে ধীরে রক্তিম বা লাল আভা ধারণ করে। আংশিক চন্দ্রগ্রহণেও চাঁদের গায়ে হালকা লালচে রং দেখা যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন র্যালে স্ক্যাটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সূর্যের সাদা আলোর মধ্যে সাতটি রং থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা ধূলিকণা ও গ্যাসের কারণে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো, যেমন নীল ও বেগুনি, বেশি বিচ্ছুরিত হয়। কিন্তু বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো, যেমন লাল ও কমলা, তুলনামূলক সহজে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে যেতে পারে।
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। তখন পৃথিবীর ছায়ার কেন্দ্রীয় ঘন অংশ, যাকে আম্ব্রা বা প্রচ্ছায়া বলা হয়, চাঁদের ওপর পড়ে। সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে না পারলেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে আসা লাল ও কমলা আলো সামান্য বাঁক নিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে গিয়ে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল তখন এক ধরনের প্রাকৃতিক ফিল্টার ও লেন্সের মতো কাজ করে।
এই প্রক্রিয়ায় নীল আলো আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়ে হারিয়ে যায়, আর লাল আলো চাঁদের অন্ধকার অংশে প্রতিফলিত হয়। ফলে পৃথিবীর ছায়ার মধ্যেও চাঁদ পুরো কালো না হয়ে লালচে আভায় দৃশ্যমান থাকে। এ কারণেই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণকে অনেক সময় ব্লাড মুন বলা হয়।
একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে চাঁদ হঠাৎ করে লাল হয় না। শুরুতে তা ধূসর দেখায়, এরপর কমলা এবং সবশেষে গাঢ় লাল বা অ্যাম্বার রং ধারণ করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ বেশি হলে চাঁদের রং আরও গাঢ় হতে পারে।
তবে সব অঞ্চলে একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় না। কোথাও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, আবার কোথাও আংশিক গ্রহণ দেখা যায়। আংশিক চন্দ্রগ্রহণে চাঁদের একটি অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকে, আর বাকি অংশ উজ্জ্বল থাকে।
সিএ/এমআর


