বাংলাদেশে চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো স্বচ্ছভাবে নথিভুক্ত করে জনসম্মুখে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে একটি উন্মুক্ত নাগরিক তথ্যমঞ্চ। ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্মটির নাম ‘চান্দাওয়াচ’। কমিউনিটি-ভিত্তিক এই ভার্চুয়াল ওপেন রিপোর্টিং মঞ্চে যে কেউ নিজের এলাকার চাঁদাবাজি সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করতে পারবেন।
স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার ব্যবহার করে এই ওয়েবঅ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে দেশের কোন এলাকায়, কে বা কারা চাঁদা আদায় করছে। এতে রয়েছে লোকেশনভিত্তিক ম্যাপ সিস্টেম, চাঁদার পরিমাণ উল্লেখের অপশন, তথ্য ‘সঠিক’ নাকি ‘ভুয়া’ তা যাচাইয়ের সুযোগ এবং নতুন তথ্য যুক্ত করার সুবিধা।
এই প্ল্যাটফর্মটি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয়। এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি নাগরিক উদ্যোগ। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোথায় চাঁদা তোলা হচ্ছে, কত টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং তা বৈধ না অবৈধ—এসব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।
চাঁদাবাজির ওপর নজরদারি জোরদার করতেই এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন তরুণ সফটওয়্যার ডেভেলপার রেহানুজ জামান। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘মাইন্ডি বাংলাদেশ’ নামের একটি উদ্যোগও নিয়েছেন।
এই নতুন মঞ্চে যে কেউ মানচিত্রে পিন বসিয়ে ঘটনার তারিখ, সময়, চাঁদার পরিমাণ ও বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বেনামে রিপোর্ট জমা দিতে পারেন। রিপোর্ট প্রথমে পর্যালোচনাধীন থাকে। অ্যাডমিন মডারেশনের পর সেটি পাবলিক ম্যাপে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত রিপোর্টে অন্য ব্যবহারকারীরা নিশ্চিত অথবা বিতর্কিত ভোট দিতে পারেন। পর্যাপ্ত নিশ্চিতকরণ পেলে রিপোর্টটি যাচাইকৃত হিসেবে চিহ্নিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করলেও তথ্য ও প্রমাণের অভাবে অনেক ঘটনা সামনে আসে না। ‘চান্দাওয়াচ’ সেই অদৃশ্য জায়গাতেই স্বচ্ছতার আলো ফেলতে চায়।
সিএ/এমআর


