নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী ২৫ কোটি বছরে বর্তমানের সমস্ত মহাদেশ একত্রিত হয়ে একটি বিশাল সুপারকন্টিনেন্ট তৈরি করবে। তবে এই নতুন পৃথিবী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা জানান, তীব্র তাপ এবং ব্যাপক খরা পৃথিবীর বাসযোগ্য অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আটলান্টিক মহাসাগর সংকুচিত হয়ে বিলীন হবে। টেকটোনিক প্লেটের আন্দোলনের ফলে ইউরোপ ও আফ্রিকা একত্রিত হবে। বর্তমানে যে ভূমধ্যসাগর দেখা যায় তা বিলীন হয়ে যাবে। ফলে মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একই স্থলভূমির অংশ হবে। সমুদ্রের অনুপস্থিতি শীতল রাখার প্রাকৃতিক উৎসকে নষ্ট করবে, ফলে গ্রীষ্মকাল অসহনীয় হয়ে উঠবে।
কম্পিউটার মডেল অনুযায়ী, সুপারকন্টিনেন্টের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের তাপমাত্রা বছরের দীর্ঘ সময় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকবে। বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফার্নসওয়ার্থ বলেন, বিশাল এই ভূখণ্ডের অধিকাংশ অংশ এত গরম ও শুষ্ক হবে যে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব হবে। মানুষও ঘামানোর মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা করতে পারবে না, এমনকি ছায়ায় থাকলেও তাপ প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
সুপারকন্টিনেন্ট তৈরির সময় ভূপৃষ্ঠে নতুন ফাটল ও আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হবে। এতে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে এবং গ্রিনহাউস প্রভাব বাড়বে। একই সময়ে সূর্য বর্তমানের চেয়ে প্রায় ২.৫ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল হবে। এই দ্বিমুখী প্রভাব পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলবে, যা প্রাণীদের অভিযোজনের চেয়ে দ্রুত।
অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে মরুভূমি তৈরি হলেও সমুদ্র তীরবর্তী ও উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চল কিছুটা শীতল থাকবে। উত্তর ফ্রান্স, ব্রিটেন ও পর্তুগালের কিছু অংশ এই শীতল বলয়ের কাছাকাছি থাকবে। তবে সমুদ্র থেকে হাজার মাইল দূরের অঞ্চলে বাতাস শুষ্ক হয়ে প্রাণের অস্তিত্ব কমে যাবে।
গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, ২৫ কোটি বছরের নিখুঁত পূর্বাভাস কঠিন। সামান্য টেকটোনিক পরিবর্তনও ভবিষ্যতের মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে।
সিএ/এমআর


