যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটছে জাপান। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিযুক্ত পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন লাগা বা ধোঁয়া বের হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি উড়োজাহাজ ও ট্রেনে ঘটে যাওয়া একাধিক দুর্ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বিমানবন্দরে এয়ার বুসানের একটি উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ওই দুর্ঘটনার জন্য পাওয়ার ব্যাংককেই দায়ী করা হচ্ছে। এর আগে গত অক্টোবরে ওকিনাওয়া থেকে টোকিওগামী একটি ফ্লাইটে ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনাও ঘটে। একই ধরনের দুর্ঘটনা ট্রেনেও ঘটেছে, যেখানে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
এসব ঘটনার পর জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের পাশাপাশি বহনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে জাপান থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং জাপানে আসা সব এয়ারলাইন্সের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে সংস্থাটি উড়োজাহাজের ভেতরে পাওয়ার ব্যাংকের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
পরিকল্পিত নীতিমালা অনুযায়ী, ১৬০ ওয়াট-আওয়ারের বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আর ১৬০ ওয়াট-আওয়ার বা এর কম ক্ষমতার ব্যাটারির ক্ষেত্রে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি ইউনিট সঙ্গে রাখতে পারবেন। আগামী এপ্রিলের মধ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আঘাত বা অতিরিক্ত তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে মোবাইল ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার সংখ্যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিএ/এমআর


