স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। যোগাযোগ, অফিসের কাজ, অনলাইন লেনদেন কিংবা বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই ফোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে ফোন বারবার হ্যাং হলে কাজের গতি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি বাড়ে বিরক্তি।
অনেক ব্যবহারকারী জানেন না, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ডেভেলপার অপশনে থাকা কিছু সেটিংস সামান্য পরিবর্তন করলেই ফোনের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা যায়। বিশেষ করে মিড-রেঞ্জ বা পুরোনো ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর।
প্রথমত, ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া সীমিত করা জরুরি। একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালু থাকলে প্রসেসর ও র্যামের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ডেভেলপার অপশনে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া লিমিট ২ বা তার নিচে নামিয়ে আনলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকে এবং ফোন দ্রুত সাড়া দেয়।
দ্বিতীয়ত, লগার বাফারের আকার কমানো যেতে পারে। ফোনের বিভিন্ন কার্যক্রম সংরক্ষণের জন্য বড় লগার বাফার ব্যবহার হলে মেমোরির ওপর চাপ বাড়ে। এটি ৬৪কে বা ২৫৬কে-তে নামিয়ে আনলে পারফরম্যান্স কিছুটা উন্নত হয়। প্রয়োজন না থাকলে এই অপশন বন্ধ রাখাও উপকারী।
তৃতীয়ত, ফোর্স পিক রিফ্রেশ রেট চালু করা যেতে পারে। যেসব ফোনে উচ্চ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে, সেখানে এই সেটিংস চালু করলে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন আরও মসৃণ দেখা যায়। তবে এতে ব্যাটারি খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।
চতুর্থত, অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দেওয়া কার্যকর একটি উপায়। অ্যাপ খোলা, মেনু পরিবর্তন বা ট্রানজিশনের সময় বেশি অ্যানিমেশন থাকলে ফোন ধীর হয়ে যায়। ডেভেলপার অপশনে গিয়ে অ্যানিমেশন স্কেল কমালে বা বন্ধ করলে ফোন দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করে।
এই চারটি সহজ সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের পারফরম্যান্স অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। ছোট পরিবর্তন হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
সিএ/এমআর


