গর্ভপাত নারীদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি অভিজ্ঞতা। এতদিন ধারণা ছিল, বয়সজনিত ঝুঁকি বা আকস্মিক শারীরিক জটিলতার কারণেই অধিকাংশ গর্ভপাত ঘটে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। গবেষকদের মতে, বহু ক্ষেত্রে গর্ভপাতের মূল কারণ মায়ের নিজের ভ্রূণাবস্থাতেই তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হওয়া গর্ভধারণের প্রায় ১৫ শতাংশ গর্ভপাতের মাধ্যমে শেষ হয়। প্রকৃত হার আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক সময় গর্ভধারণ শনাক্ত হওয়ার আগেই গর্ভপাত ঘটে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভপাতের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভ্রূণের ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত অস্বাভাবিকতা, যাকে অ্যানিউপ্লয়ডি বলা হয়। গর্ভাবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যত গর্ভপাত ঘটে, তার প্রায় অর্ধেকই এই ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার কারণে হয়।
এই অ্যানিউপ্লয়ডির উৎস খুঁজতে গবেষকরা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার আইভিএফ ভ্রূণের জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২২ হাজার ৮৫০ জন মা–বাবার তথ্য থেকে সংগৃহীত এক লাখ ৩৯ হাজারের বেশি ভ্রূণের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় ৯২ হাজারের বেশি অস্বাভাবিক ক্রোমোজোম শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক রাজীব ম্যাককয় বলেন, মানুষের মধ্যে ক্রোমোজোম ত্রুটির ঝুঁকি কেন তৈরি হয়, তার আণবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে এই গবেষণা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে প্রজনন জেনেটিক্স ও ফার্টিলিটি চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গবেষকদের মতে, ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা সাধারণত ডিম্বাণু থেকেই তৈরি হয় এবং মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তবে বয়স ছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট জিন মায়ের মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোমের জোড়া লাগা ও পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলে, যা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শুধু জিনগত তথ্যের ভিত্তিতে কারও ব্যক্তিগত গর্ভপাতের ঝুঁকি আগাম নির্ণয় করা এখনো কঠিন। বয়স ও পরিবেশগত প্রভাবসহ আরও নানা বিষয় এখানে জড়িত। গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।
সিএ/এমআর


