ব্যাটারিতেও বিদ্যুৎ থাকে, অথচ সাধারণত আমরা এতে বৈদ্যুতিক শক অনুভব করি না। আধুনিক সভ্যতার প্রায় সব প্রযুক্তিই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হলেও বিদ্যুৎ এখনো বিপজ্জনক হতে পারে। তবুও রিমোট বা ঘড়ির ব্যাটারি হাতে ধরলে কোনো ঝাঁকুনি লাগে না, যেখানে ঘরের ২২০ ভোল্ট লাইনে সামান্য অসতর্কতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এর পেছনে মূল কারণ বিদ্যুতের ধরন ও ভোল্টেজের পার্থক্য।
ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎকে বলা হয় ডিসি বা ডাইরেক্ট কারেন্ট। এই বিদ্যুৎ একদিকে প্রবাহিত হয় এবং তুলনামূলকভাবে কম ভোল্টেজের। যেমন সাধারণ ব্যাটারিতে ১.৫ থেকে ১২ ভোল্টের বেশি হয় না। মানুষের শরীরের চামড়ার স্বাভাবিক রোধ এই অল্প ভোল্টেজের বিদ্যুৎকে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে শক অনুভূত হয় না।
অন্যদিকে ঘরের এসি বিদ্যুৎ প্রতি সেকেন্ডে বারবার দিক পরিবর্তন করে এবং এর ভোল্টেজ অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই ভোল্টেজ ২২০। এত বেশি ভোল্টেজে শরীরের রোধ ভেঙে কারেন্ট প্রবেশ করতে পারে, যা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তবে ডিসি বিদ্যুৎ একেবারেই নিরাপদ—এ ধারণাও ভুল। উচ্চ ভোল্টেজের ডিসি, যেমন সোলার প্যানেল বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, ভয়াবহ হতে পারে।
বিদ্যুতিক শক মূলত নির্ভর করে শরীরের ভেতর দিয়ে কতটা কারেন্ট প্রবাহিত হচ্ছে তার ওপর। ভোল্টেজ যত বেশি, ঝুঁকিও তত বেশি। তাই ব্যাটারিতে সাধারণত শক লাগে না এর কম ভোল্টেজের জন্য, বিদ্যুত থাকার অভাবের কারণে নয়।
সিএ/এমআর


