বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বড় আবিষ্কার মানেই যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত গবেষণা—তা কিন্তু সব সময় সত্য নয়। ইতিহাসে এমন অনেক উদ্ভাবনের উদাহরণ আছে, যেগুলো পরিকল্পনা নয়, বরং ভুল, কৌতূহল কিংবা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার ফল। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বহু প্রয়োজনীয় জিনিসই আসলে দুর্ঘটনাক্রমে আবিষ্কৃত। এমনই সাতটি আবিষ্কারের গল্প তুলে ধরা হলো।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন
আজকের ব্যস্ত জীবনে দ্রুত খাবার গরম বা রান্নার জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভেন অত্যন্ত পরিচিত একটি যন্ত্র। এর আবিষ্কারও ছিল একেবারেই আকস্মিক। ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রকৌশলী পার্সি স্পেন্সার রাডার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় খেয়াল করেন, তাঁর পকেটে রাখা একটি চকলেট গলে গেছে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, রাডারের ম্যাগনেট্রন টিউব থেকে নির্গত তরঙ্গই এর কারণ। বিষয়টি পরীক্ষা করতে তিনি পপকর্ন ও ডিম ব্যবহার করেন এবং দেখেন সেগুলো রান্না হয়ে গেছে। এই ঘটনাই পরবর্তীতে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ধারণার জন্ম দেয়।
দিয়াশলাই
দৈনন্দিন জীবনে আগুন জ্বালানোর সহজ মাধ্যম দিয়াশলাইয়ের আবিষ্কারও হয়েছিল দুর্ঘটনায়। ১৮২৬ সালে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জন ওয়াকার ল্যাবরেটরিতে একটি কাঠির সঙ্গে কিছু রাসায়নিক মেশাচ্ছিলেন। কাঠির মাথায় শুকিয়ে থাকা রাসায়নিক পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি সেটি মেঝেতে ঘষলে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকেই দিয়াশলাইয়ের ধারণা আসে।
চকলেট চিপ কুকিজ
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় চকলেট চিপ কুকিজের জন্মও একটি ভুল থেকে। ১৯৩০ সালে রুথ ওয়েকফিল্ড কুকিজ বানানোর সময় বেকিং চকলেটের অভাবে নেসলে চকলেট ভেঙে মিশিয়ে দেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, চকলেটগুলো ওভেনে গলে যাবে। কিন্তু তা না হয়ে চকলেটের টুকরো শক্ত দানার মতোই থেকে যায়। সেই ভিন্ন স্বাদের কুকিজই পরে জনপ্রিয় চকলেট চিপ কুকিজে রূপ নেয়।
স্লিংকি
শিশুদের বহুল জনপ্রিয় খেলনা স্লিংকির আবিষ্কারও ছিল অনিচ্ছাকৃত। ১৯৪৩ সালে নৌ-প্রকৌশলী রিচার্ড জেমস জাহাজের যন্ত্রপাতি স্থির রাখার জন্য একটি স্প্রিং তৈরি করছিলেন। হঠাৎ একটি স্প্রিং টেবিল থেকে পড়ে গিয়ে মেঝেতে লাফাতে লাফাতে এগোতে থাকে। এই অদ্ভুত গতিবিধিই পরে খেলনা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
স্যাকারিন
চিনির বিকল্প হিসেবে পরিচিত স্যাকারিনের আবিষ্কারও ছিল কাকতালীয়। ১৮৭৯ সালে কনস্ট্যান্টিন ফাহলবার্গ আলকাতরা নিয়ে গবেষণার পর হাত না ধুয়েই খাবার খেতে বসেন। তখন তিনি খাবারে অস্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদ পান। পরে বুঝতে পারেন, তাঁর হাতে লেগে থাকা রাসায়নিক থেকেই এই স্বাদ এসেছে। এভাবেই স্যাকারিনের আবিষ্কার।
বাবল র্যাপ
আজ যে বাবল র্যাপ ফাটিয়ে আনন্দ পাওয়া হয়, সেটিও ছিল এক ব্যর্থ উদ্ভাবনের ফল। ১৯৫৭ সালে আলফ্রেড ফিল্ডিং ও মার্ক চ্যাভান্নেস আধুনিক থ্রি-ডি ওয়ালপেপার বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বুদবুদযুক্ত সেই ওয়ালপেপার বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পরে ১৯৬০ সালে এটি আইবিএম কম্পিউটার প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হলে জনপ্রিয়তা পায়।
সিলি পুটি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রাকৃতিক রাবারের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে জেমস রাইট সিলিকন তেল ও বোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে একটি অদ্ভুত বস্তু তৈরি করেন। এটি রাবার হিসেবে ব্যর্থ হলেও খেলনা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এমনকি মহাকাশ অভিযানে অ্যাপোলো-৮ মিশনেও এটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
সিএ/এমআর


