কিশোরগঞ্জের ভৈরব কিংবা চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটের আড়তে রাতের অন্ধকারে এক নারীর উপস্থিতি নজর কাড়ত—তিনি হলেন ফারজানা আকতার। একসময় টেলিভিশন সাংবাদিকতা করতেন তিনি, এখন সফল উদ্যোক্তা। ২০১৯ সালে তিনি শুরু করেন ‘রিভার ফিশ’—যা আজ ৭০ কর্মীকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে।
ফারজানার বড় হয়ে ওঠা কুমিল্লায়। ১৯৯৭ সালে বাবাকে হারানোর পর মা ও ছোট বোনের জন্য সংসার চালানো শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন, এনজিও, কিন্ডারগার্টেন ও দর্জির কাজ করেছেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে সমাজকর্মে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ২০১৪ সালে ঢাকায় আসেন এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতার পথ শুরু করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি ২০১৮ সালে শুরু হয় ‘টুশিস কিচেন’ ও ‘ফেরিওয়ালা’ নামে ফুড ও জামদানি-লুঙ্গি ব্যবসা। শিডিউলের ব্যস্ততায় শাড়ি–লুঙ্গির ব্যবসায় সফল না হওয়ায় ২০১৯ সালে তা বন্ধ করেন। তবে ব্যর্থতা তাঁকে থামায়নি, বরং শিক্ষা হয়ে রিভার ফিশের পথ সুগম করেছে।
ফারজানা নদী দখল ও দূষণ নিয়ে কাজ করার সময় লক্ষ্য করেন রাজধানীর বাজারে ফরমালিনমুক্ত তাজা মাছ পাওয়া কতটা দুষ্কর। ২০১৯ সালের মার্চে শুরু হয় তাঁর মাছের উদ্যোগ। সফটওয়্যার প্রকৌশলী স্বামী তানভীর আজাদের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে অনলাইন মাধ্যম ‘রিভার ফিশ’, যা গ্রাহকের দরজায় নদী বা হাওরের মাছ সরাসরি পৌঁছে দেয়।
ফারজানা তিন মাস গভীর রাতে আড়তে গিয়ে মাছ চিনতে শিখেছেন। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, নদী, হাওর, বিল ও সমুদ্রের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা মাছ সংগ্রহ করে কৃত্রিমতা ছাড়া গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। ফারজানা ও তানভীরের প্রচেষ্টায় হাওরের মাছ, ধনু নদীর পাঁচমিশালি, কাপ্তাই লেকের পাবদা, হাকালুকি হাওরের বড় মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতি সরবরাহ হয়।
ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু করে আজ রিভার ফিশ ৭০ কর্মীকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে। বিদেশেও সেবা পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘রিভার ফিশ কিচেন’ চালু হয়েছে প্রবাসীদের জন্য, যেখানে মাছকে ঐতিহ্যবাহী স্বাদে প্যাক করা হয়। এছাড়া দেশি মুরগি, হাঁস ও খাসির মাংস, শুঁটকি পাওয়া যায়।
ফারজানা বলেন, “নিজেকে কেবল নারী ভাবলে চলবে না, মানুষ হিসেবে আত্মবিশ্বাস থাকলেই সব বাধা জয় করা সম্ভব।” এখন তিনি নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছেন।
সিএ/এমআর


