গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডিপফেক অ্যাপ ছড়িয়ে পড়েছে। টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট (টিটিপি) পরিচালিত এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অ্যাপের মাধ্যমে ছবিতে থাকা ব্যক্তির পোশাক ডিজিটালি সরিয়ে নগ্ন বা প্রায় নগ্ন ছবি তৈরি করা সম্ভব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল প্লে স্টোরে ৫৫টি এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ৪৭টি এ ধরনের অ্যাপ শনাক্ত হয়েছে।
টিটিপির তথ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাপ সম্মতি ছাড়া ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে যৌনভাবে বিকৃত কনটেন্ট তৈরি করার সুযোগ দেয়। অনলাইন হয়রানি ও অপব্যবহারের নতুন মাধ্যম হিসেবে এই প্রযুক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অ্যাপম্যাজিকের তথ্য উদ্ধৃত করে টিটিপি জানিয়েছে, এসব অ্যাপ বিশ্বজুড়ে ৭০ কোটি ৫০ লাখের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে এবং আয় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ের একটি অংশ কমিশন হিসেবে গুগল ও অ্যাপল পেয়ে থাকে। টিটিপি অভিযোগ করেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি পরোক্ষভাবে এসব অ্যাপের কার্যক্রম থেকে লাভবান হচ্ছে। অ্যাপল জানিয়েছে, তারা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ২৮টি অ্যাপ সরিয়ে দিয়েছে। গুগল জানিয়েছে, কয়েকটি অ্যাপ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তবুও টিটিপি মনে করে পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
টিটিপি আরও বলেছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ডিপফেক অ্যাপ প্ল্যাটফর্মে থেকে যাচ্ছে, যা সাধারণ নারীর ছবিকেও যৌন নির্যাতনের উপকরণে পরিণত করতে পারে। এছাড়া, ইলন মাস্কের এক্সএআই চ্যাটবট গ্রোকও যৌনভাবে বিকৃত ছবি তৈরির অভিযোগে বিভিন্ন দেশে তদন্তের মুখোমুখি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ দিনের মধ্যে গ্রোক ৩০ লাখের বেশি যৌনভাবে বিকৃত ছবি তৈরি করেছে, যার মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশুদের মতো চরিত্রযুক্ত।
সিএ/এমআর


