মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন অঞ্চলে হৃদয় বা ভালোবাসার চিহ্নের মতো দেখতে একাধিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশপ্রেমী ও গবেষকদের কৌতূহল জাগিয়ে আসছে। নাসার মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়ার মহাকাশযানের ক্যামেরায় ধরা পড়া এসব কাঠামোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, আদৌ কি এসব কাঠামোর পেছনে কোনো কৃত্রিম বা রহস্যময় কারণ রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায়, মঙ্গল গ্রহের বুকে দেখা এই হৃদয়াকৃতির গঠনগুলো আসলে প্রাকৃতিক পাহাড়, উপত্যকা, মালভূমি ও আগ্নেয়গিরির গর্তের সমন্বয়ে তৈরি। কোটি কোটি বছর ধরে চলা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ধূলিঝড় এবং প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে এসব কাঠামো ধীরে ধীরে এমন আকৃতি ধারণ করেছে। এগুলো কোনোভাবেই মানুষের তৈরি বা ভিনগ্রহী সভ্যতার চিহ্ন নয়।
নাসার তথ্যমতে, মঙ্গলের উত্তর থেকে দক্ষিণ—বিভিন্ন অক্ষাংশে হৃদয়াকৃতির একাধিক গঠন শনাক্ত করা হয়েছে। কোনোটি বিস্তৃত উঁচু মালভূমি, আবার কোনোটি গভীর খাদ বা গহ্বর। ই০৪-০১৭৮৮ নামের হৃদয়াকৃতির কাঠামোটি মঙ্গলের নিচু মালভূমিতে অবস্থিত, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩৬ মিটার। আর১০-০৩২৫৯ নামের আরেকটি গহ্বরের বিস্তার প্রায় ৩৭৮ মিটার। এ ছাড়া আর০৪-০০৩৯৫, ই১১-০০০৯০ এবং আর০৯-০২১২১ নামের আরও কয়েকটি কাঠামোর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
আকারের দিক থেকেও এসব কাঠামোর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। আর০৪-০০৩৯৫ এলাকায় পাওয়া গঠনটি প্রায় এক কিলোমিটার চওড়া। গভীর গর্তের মাঝখানে উঁচু মালভূমি থাকায় ওপর থেকে দেখলে এটি নিখুঁত হৃদয়াকৃতির মতো মনে হয়। অন্যদিকে আর০৯-০২১২১ তুলনামূলকভাবে ছোট, প্রায় ১২০ মিটার প্রশস্ত। এটি একটি বড় ক্রেটারের ভেতরে অবস্থিত ক্ষুদ্র পাহাড়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গল গ্রহের পাতলা বায়ুমণ্ডল ও প্রবল ধূলিঝড়ের কারণে পাথর ও ভূমির ক্ষয় এমনভাবে ঘটে যে অনেক সময় পরিচিত জ্যামিতিক বা জীববৈজ্ঞানিক আকৃতির মতো দেখায়। এই মানসিক বিভ্রমকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেইডোলিয়া বলা হয়। হৃদয়াকৃতির এসব গঠন তাই শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
সিএ/এমআর


